কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য: সন্তান রক্ষায় দুই মায়ের লড়াই

কিশোর-গ্যাং-দৌরাত্ম্য

স্কুল ছুটি হয়েছে। কাঁধে ব্যাগ নিয়ে বাড়ির পথে ফিরছে এক কিশোর। প্রতিদিনের মতোই স্বাভাবিক একটি বিকেল।

কিন্তু হঠাৎ যদি কেউ তাকে অনুসরণ করতে শুরু করে, তখন সেই স্বাভাবিক পথই হয়ে উঠতে পারে আতঙ্কের কারণ।

সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে এমন উদ্বেগ এখন অনেক পরিবারের বাস্তবতা।

বিশেষ করে শহরাঞ্চলে কিশোর গ্যাং দৌরাত্ম্য নিয়ে অভিভাবকদের চিন্তা দিন দিন বাড়ছে।

শুধু অপরাধী চক্রের হাতে সন্তান আক্রান্ত হওয়ার ভয় নয়, সন্তান নিজেই কোনো ভুল সঙ্গের প্রভাবে অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে-এমন আশঙ্কাও রয়েছে।

ফলে মা-বাবার সামনে এখন দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ।

একদিকে সন্তানকে নিরাপদ রাখতে হবে, অন্যদিকে তাকে এমনভাবে বড় করতে হবে, যাতে সে ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝে নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এই বাস্তবতায় দুই মায়ের গল্প গুরুত্বপূর্ণ। একজন ঢাকার মোহাম্মদপুরে, অন্যজন উত্তরায় থাকেন।

দুজনের জীবনযাপন ও পারিবারিক পরিস্থিতি ভিন্ন হলেও সন্তানকে নিরাপদ রাখা এবং ইতিবাচক পরিবেশে বড় করার চেষ্টা তাঁদের এক জায়গায় মিলিয়েছে।

স্কুল থেকে ফেরার পথে কিশোরকে অনুসরণ ও কিশোর গ্যাং দৌরাত্ম্য

মোহাম্মদপুরের একটি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ১৬ বছর বয়সী ওশান। কয়েক মাস আগে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে এক তরুণ তাকে অনুসরণ করছিলেন।

ওই ব্যক্তি বারবার একটি কাগজ দেখার জন্য ওশানকে বলছিলেন।

তাঁর আচরণ কিশোরটির কাছে স্বাভাবিক মনে হয়নি। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ওশান দৌড়ে কাছের একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। সেখানে থাকা লোকজনের কাছে সাহায্য চায়।

দোকানের লোকজন বাইরে বের হওয়ার পর ওই তরুণকে আর সেখানে পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি ওশানের মা তামান্না ইয়াসমিনকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে।

তাঁর ভয় আরও বেড়ে যায়, কারণ এর আগেই ছেলের দুই বন্ধু আলাদা ঘটনায় ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিল।

একজনের কাছ থেকে মুঠোফোন এবং অন্যজনের কাছ থেকে সাইকেল নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

একজন মা হিসেবে তামান্নার প্রশ্ন-সন্তানকে কতক্ষণ চোখে চোখে রাখা সম্ভব?

তাকে তো একসময় একাই স্কুলে যেতে হবে, বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে হবে এবং নিজের মতো করে পৃথিবীকে চিনতে হবে।

সন্তানকে ঘরে আটকে রাখাই কি সমাধান?

কিশোর গ্যাং দৌরাত্ম্য নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হলে অনেক অভিভাবক সন্তানকে বাইরে যেতে দিতে চান না।

কিন্তু দীর্ঘ সময় ঘরে আটকে রাখা কিশোরের স্বাভাবিক বিকাশের জন্যও ভালো সমাধান নয়।

তামান্না মনে করেন, নিরাপত্তার পাশাপাশি সন্তানকে ইতিবাচক কাজে যুক্ত রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

তাঁর ছেলে স্কুলের আইটি ও সায়েন্স ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত। বিজ্ঞানভিত্তিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি লেখালেখি ও সৃজনশীল কাজেও তার আগ্রহ রয়েছে।

এ ধরনের কার্যক্রম কিশোরদের সময়কে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করে।

একই সঙ্গে তাদের আত্মবিশ্বাস, যোগাযোগ দক্ষতা ও নতুন কিছু শেখার আগ্রহ বাড়তে পারে।

তামান্নার ছেলে একটি স্কুল প্রকাশনায় বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েও লিখেছে।

তার লেখায় অভিভাবকদের অতিরিক্ত তুলনা করার কারণে সন্তানের আত্মবিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।

প্রযুক্তির ব্যবহারেও অভিভাবকের সচেতনতা জরুরি

বর্তমান সময়ে কিশোরদের জীবন থেকে স্মার্টফোন, কম্পিউটার ও ইন্টারনেট পুরোপুরি বাদ দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়।

শিক্ষা, যোগাযোগ ও সৃজনশীল কাজের জন্য প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ।

তবে প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

সন্তান কোন ধরনের ওয়েবসাইট ব্যবহার করছে, কার সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং অনলাইনে কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে কি না-এসব বিষয়ে বয়স উপযোগী সচেতনতা তৈরি করা দরকার।

তামান্না ছেলের বিভিন্ন ডিভাইসের পাসওয়ার্ড জানেন।

তবে তাঁর লক্ষ্য কেবল নজরদারি নয়; সন্তানের সঙ্গে এমন সম্পর্ক তৈরি করা, যাতে কোনো সমস্যায় পড়লে ছেলে নিজে থেকেই মায়ের কাছে বিষয়টি জানায়।

কিশোরকে বোঝাতে হবে, শুধু শাসন নয়

কৈশোর এমন একটি সময়, যখন অতিরিক্ত শাসন বা নিয়ন্ত্রণ অনেক সময় সন্তানের কাছে বিরক্তিকর হয়ে উঠতে পারে। সে মনে করতে পারে, মা-বাবা তাকে বিশ্বাস করছেন না।

তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তানকে নিয়ম শেখানোর পাশাপাশি নিয়মের কারণও বোঝানো দরকার।

অপরিচিত কারও সঙ্গে কোথায় সতর্ক থাকতে হবে, বিপদ বুঝলে কীভাবে সাহায্য চাইতে হবে,

বন্ধুর চাপের মুখে কীভাবে না বলতে হবে-এসব বিষয় বাস্তব উদাহরণ দিয়ে শেখানো যেতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সন্তান যেন কোনো ভুল করলেও মা-বাবার কাছে বিষয়টি বলতে ভয় না পায়।

উত্তরার লাকি রহমানের লড়াই

উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরে থাকেন লাকি রহমান। তিনি কর্মজীবী এবং একা মা।

তাঁর ১৩ বছর বয়সী ছেলে সাফওয়ান রহমান একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বড় মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন।

ব্যস্ত কর্মজীবনের পাশাপাশি সন্তানদের দেখভাল করা লাকির জন্য সহজ নয়। তারপরও ছেলের নিরাপত্তা ও বিকাশের বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন।

ছেলের যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় খরচের পাশাপাশি যোগাযোগের সুবিধার জন্য বাসায় একটি ফিচার ফোন রেখেছেন তিনি।

ছেলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করেন।

আত্মরক্ষার জন্য কারাতে শিখছে সাফওয়ান

সন্তানের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সাফওয়ানকে কয়েক মাস আগে কারাতে প্রশিক্ষণে ভর্তি করেছেন লাকি রহমান।

তাঁর উদ্দেশ্য শুধু খেলাধুলা নয়; প্রয়োজনে বিপদ এলে যেন ছেলে নিজেকে রক্ষা করার মৌলিক দক্ষতা কাজে লাগাতে পারে।

তবে আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সাফওয়ান পড়াশোনা ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেও যুক্ত।

সে স্কুলের ডিবেট ক্লাবের সদস্য, আবৃত্তি করে এবং স্কাউটিংয়ের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে।

স্কুলজীবনে বিভিন্ন সময়ে ভালো ফল ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য পুরস্কারও পেয়েছে সে।

সন্তানের সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক কেন গুরুত্বপূর্ণ

লাকি মনে করেন, সন্তানকে শুধু ‘এটা করো’ বা ‘ওটা করো না’ বললে দীর্ঘমেয়াদে কাজ হয় না। বরং তাকে যুক্তি দিয়ে বোঝাতে হয়।

সন্তানের সঙ্গে তাঁর এমন একটি সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, যেখানে ছেলে নিজের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা মায়ের সঙ্গে শেয়ার করতে পারে।

একবার ছেলের এক বন্ধু তাকে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি একটি চলচ্চিত্রের নাম লিখে দিয়েছিল।

ছেলেটি বিষয়টি মাকে জানায়। লাকির মতে, মা-ছেলের মধ্যে আস্থা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক না থাকলে হয়তো ঘটনাটি তাঁর জানাই হতো না।

তিনি ছেলেকে ওই বন্ধুর সঙ্গে আর মিশতে নিষেধ না করে ভালো-মন্দ বিচার করে চলার বিষয়ে বোঝান।

কিশোর গ্যাং দৌরাত্ম্য ঠেকাতে শুধু অভিযান যথেষ্ট নয়

দেশে কিশোর গ্যাং দৌরাত্ম্য নিয়ে আলোচনা নতুন নয়।

বিভিন্ন সময় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিশোরদের সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা সামনে এসেছে।

কিশোরদের ব্যবহার করে ছিনতাই, মাদক, মারামারি ও অন্যান্য অপরাধ সংঘটনের অভিযোগও রয়েছে।

কোথাও কোথাও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা বড় অপরাধী চক্রের সঙ্গে কিশোরদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে আসে।

এ কারণে সমস্যাটিকে শুধু ‘কিশোরদের সমস্যা’ হিসেবে দেখলে এর পুরো চিত্র পাওয়া যায় না।

পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সামাজিক সংগঠন—সব পক্ষের ভূমিকা প্রয়োজন।

অপরাধ ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আগেই কিশোরদের জন্য বিকল্প ও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।

সব পরিবারের পক্ষে ক্লাব বা প্রশিক্ষণের খরচ বহন সম্ভব নয়

কিশোরদের বিভিন্ন ক্লাব, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বা আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণে যুক্ত করার কথা বলা সহজ। কিন্তু বাস্তবে সব পরিবারের পক্ষে এসবের খরচ বহন করা সম্ভব নয়।

একটি নিম্ন বা মধ্যম আয়ের পরিবার হয়তো নিয়মিত প্রশিক্ষণের খরচ দিতে পারবে না।

তাই শিশু-কিশোরদের বিকাশের সুযোগ শুধু অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক চর্চা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক কার্যক্রম আরও বাড়ানো যেতে পারে।

স্থানীয় পর্যায়েও নিরাপদ মাঠ, পার্ক ও কমিউনিটি কার্যক্রমের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।

নিরাপদ মাঠ ও বিনোদনের জায়গা দরকার

শিশু-কিশোরদের সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য শুধু বই পড়া বা পরীক্ষার প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়।

খেলাধুলা, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং সৃজনশীল কাজে অংশ নেওয়ার সুযোগও প্রয়োজন।

কিন্তু শহরের অনেক এলাকায় খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত জায়গার সংকট রয়েছে।

কোথাও মাঠ থাকলেও নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ থাকে।

নিরাপদ পরিবেশে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করা গেলে তাদের অবসর সময় ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করা সহজ হবে।

একই সঙ্গে অপরাধপ্রবণ পরিবেশ থেকে তাদের দূরে রাখতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

সন্তানকে কতটা নজরদারি করবেন?।কিশোর গ্যাং দৌরাত্ম্য

সন্তানের নিরাপত্তার জন্য অভিভাবকের নজরদারি প্রয়োজন। তবে নজরদারি যেন অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণে পরিণত না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

কিশোরকে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে ভুল সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে বোঝাতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তানের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা, তার বন্ধুদের সম্পর্কে জানা, স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা

এবং সন্তানের আচরণে বড় পরিবর্তন দেখা দিলে কারণ বোঝার চেষ্টা করা কার্যকর হতে পারে।

কিশোর গ্যাং দৌরাত্ম্য মোকাবিলায় পরিবার কী করতে পারে?

পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে-

  • সন্তান কোথায় যাচ্ছে ও কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে, তা সম্পর্কে ধারণা রাখা।
  • বিপদে পড়লে কার কাছে সাহায্য চাইবে, তা শেখানো।
  • অপরিচিত ব্যক্তি ও সন্দেহজনক পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন করা।
  • সন্তানকে খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা।
  • অনলাইন নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার শেখানো।
  • সন্তানের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা।
  • ভুল করলে ভয় দেখানোর বদলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা।
  • স্কুল ও পরিবারের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা।
  • সন্তানের মানসিক চাপ বা আচরণগত পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়া।
  • প্রয়োজন হলে শিক্ষক, কাউন্সেলর বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া।

কিশোরদের নিরাপত্তায় রাষ্ট্র ও সমাজের ভূমিকা

একজন মা যতই সতর্ক থাকুন, সন্তানের প্রতিটি মুহূর্ত পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়।

তাই নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

স্কুলের আশপাশে নিরাপত্তা, অপরাধপ্রবণ এলাকায় নজরদারি, মাদক ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা,

পর্যাপ্ত খেলার মাঠ এবং শিশু-কিশোরদের জন্য নিরাপদ সামাজিক কার্যক্রম-এসব বিষয় একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

কিশোরদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার আগে তাদের কেন অপরাধের দিকে যাচ্ছে, সেটিও বোঝা জরুরি।

পরিবারে অবহেলা, খারাপ সঙ্গ, সামাজিক চাপ, বিনোদনের সুযোগের অভাব বা অপরাধী চক্রের প্রভাব-বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।

দুই মায়ের গল্প যে বার্তা দেয়।কিশোর গ্যাং দৌরাত্ম্য

মোহাম্মদপুরের তামান্না ইয়াসমিন এবং উত্তরার লাকি রহমানের অভিজ্ঞতা ভিন্ন হলেও তাঁদের লক্ষ্য একই-সন্তানকে নিরাপদ রাখা এবং ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা।

একজন সন্তানকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মতো সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করেছেন। অন্যজন আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিতর্ক, আবৃত্তি ও স্কাউটিংয়ে সন্তানকে যুক্ত করেছেন।

তবে দুজনের কাছেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিশ্বাসের সম্পর্ক।

সন্তান যেন কোনো বিপদে পড়লে প্রথমে মা-বাবার কাছেই ফিরে আসে-এই জায়গাটি তৈরি করা।

কিশোর গ্যাং দৌরাত্ম্য মোকাবিলায় তাই শুধু ভয় দেখানো বা সন্তানকে ঘরে আটকে রাখা সমাধান নয়।

দরকার সচেতন পরিবার, সহায়ক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ এবং দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ।

একটি কিশোর যেন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভয় না পায়, বন্ধুর সঙ্গে সময় কাটাতে গিয়ে বিপদে না পড়ে এবং

নিজের সমস্যার কথা নির্ভয়ে মা-বাবাকে বলতে পারে-সন্তানদের জন্য এমন পরিবেশ তৈরি করাই হওয়া উচিত সবার সম্মিলিত লক্ষ্য।

পাঠকের প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন: কিশোর গ্যাং দৌরাত্ম্য বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: সাধারণভাবে কিশোর বা তরুণদের সংঘবদ্ধ হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া এবং এলাকায় ভয় বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করাকে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বলা হয়।

প্রশ্ন: সন্তানকে কিশোর গ্যাং থেকে দূরে রাখতে কী করা যায়?
উত্তর: সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, নিয়মিত যোগাযোগ, ভালো কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন করা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন: সন্তানকে সব সময় নজরদারিতে রাখা কি ঠিক?
উত্তর: নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় নজরদারি দরকার হলেও অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের বদলে আস্থা ও খোলামেলা যোগাযোগ তৈরি করা বেশি কার্যকর হতে পারে।

প্রশ্ন: কিশোরদের জন্য খেলাধুলা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: খেলাধুলা শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করে এবং ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার সুযোগ তৈরি করে।

প্রশ্ন: কিশোর গ্যাং সমস্যা সমাধানে কার ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্র-সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু একটি পক্ষের ওপর নির্ভর করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা কঠিন।

লেখাটি ভালো লাগলে ওয়েবসাইডটি নিয়োমিত ভিজিট করবেন

সম্পাদকঃ মোঃ নাইয়ার আযম