স্কুলে ভর্তি ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য শ্রেণিভিত্তিক বয়সসীমা নির্ধারণ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর বয়স সর্বনিম্ন ৫ বছর এবং সর্বোচ্চ ৭ বছর হতে পারবে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আলাদা বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে সন্তানের বয়স অনুযায়ী কোন শ্রেণিতে আবেদন করা যাবে, তা অভিভাবকদের আগে থেকেই জেনে নেওয়া জরুরি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রকাশিত ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নীতিমালায় এসব নির্দেশনা উল্লেখ করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর বয়স যাচাইয়ের জন্য অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের সত্যায়িত অনুলিপি আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। তাই স্কুলে ভর্তি ২০২৭-এর আবেদন করার আগে শ্রেণিভিত্তিক বয়সসীমা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা প্রয়োজন।
স্কুলে ভর্তি ২০২৭-এর বয়সসীমা একনজরে
সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য নির্ধারিত বয়সসীমা নিচের টেবিলে দেওয়া হলো।
| শ্রেণির নাম | ভর্তির বয়সসীমা |
|---|---|
| প্রথম শ্রেণি | ৫ থেকে ৭ বছর |
| দ্বিতীয় শ্রেণি | ৬ থেকে ৮ বছর |
| তৃতীয় শ্রেণি | ৭ থেকে ৯ বছর |
| চতুর্থ শ্রেণি | ৮ থেকে ১০ বছর |
| পঞ্চম শ্রেণি | ৯ থেকে ১১ বছর |
| ষষ্ঠ শ্রেণি | ১০ থেকে ১২ বছর |
| সপ্তম শ্রেণি | ১১ থেকে ১৩ বছর |
| অষ্টম শ্রেণি | ১২ থেকে ১৪ বছর |
| নবম শ্রেণি | ১৩ থেকে ১৫ বছর |
| ভর্তির নীতিমালা– ২০২৭ | এখানে ক্লিক কর |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বয়স গণনার নির্ধারিত তারিখ ১ জানুয়ারি ২০২৭। অন্যান্য শ্রেণির বয়সসীমা প্রয়োগের ক্ষেত্রেও প্রকাশিত ভর্তি নীতিমালার সংশ্লিষ্ট শর্ত অনুসরণ করতে হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স নির্ধারণে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের অতিরিক্ত ছাড় দেওয়ার বিধান রয়েছে।

প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির বয়স কত হবে?। স্কুলে ভর্তি ২০২৭
স্কুলে ভর্তি ২০২৭ নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীর বয়স সর্বনিম্ন ৫ বছর এবং সর্বোচ্চ ৭ বছর হতে পারবে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি তারিখে শিক্ষার্থীর বয়স হিসাব করে এই সীমা যাচাই করা হবে।
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ অনুযায়ী প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে ছয় বছর বা তার বেশি বয়সকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। তবে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নীতিমালায় নির্ধারিত বয়সসীমা অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে শিক্ষার্থীর বয়স পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে থাকতে পারবে।
এ কারণে সন্তানের জন্মতারিখ অনুযায়ী বয়স যাচাই করে আবেদন করা উচিত। জন্মনিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্যের মিল থাকাও গুরুত্বপূর্ণ।
দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তির বয়স কত?
প্রাথমিক স্তরের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বয়স ধাপে ধাপে নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তির জন্য বয়স হতে হবে ৬ থেকে ৮ বছর। তৃতীয় শ্রেণিতে ৭ থেকে ৯ বছর, চতুর্থ শ্রেণিতে ৮ থেকে ১০ বছর এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৯ থেকে ১১ বছর বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে।
অভিভাবকদের মনে রাখতে হবে, শুধু বয়সের ভিত্তিতে শ্রেণি নির্বাচন করলেই হবে না। শিক্ষার্থীর পূর্ববর্তী শ্রেণিতে অধ্যয়ন, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং বিদ্যালয়ের ভর্তি-সংক্রান্ত অন্যান্য শর্তও প্রযোজ্য হতে পারে।
ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির বয়সসীমা
মাধ্যমিক পর্যায়ে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির বয়সসীমাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীর বয়স হতে হবে ১০ থেকে ১২ বছর। সপ্তম শ্রেণিতে ১১ থেকে ১৩ বছর, অষ্টম শ্রেণিতে ১২ থেকে ১৪ বছর এবং নবম শ্রেণিতে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে।
যেসব বিদ্যালয়ে আসন খালি থাকবে, সেসব বিদ্যালয়ে নীতিমালার শর্ত অনুসারে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে। তবে সংশ্লিষ্ট শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ, আসনসংখ্যা এবং প্রয়োজনীয় যোগ্যতা বিদ্যালয়ের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যাচাই করতে হবে।
স্কুলে ভর্তির বয়স কীভাবে যাচাই করা হবে?
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর বয়স যাচাইয়ের জন্য অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের সত্যায়িত অনুলিপি আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
আবেদনের আগে অভিভাবকদের কয়েকটি বিষয় যাচাই করা উচিত:
১. জন্মনিবন্ধন সনদে শিক্ষার্থীর জন্মতারিখ সঠিক আছে কি না।
২. নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী শিক্ষার্থীর বয়স সংশ্লিষ্ট শ্রেণির সীমার মধ্যে রয়েছে কি না।
৩. আবেদনপত্রে জন্মতারিখ ও অন্যান্য তথ্য জন্মনিবন্ধনের সঙ্গে মিলিয়ে লেখা হয়েছে কি না।
৪. সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে অতিরিক্ত কোনো কাগজপত্র বা শর্ত উল্লেখ আছে কি না।
জন্মনিবন্ধনের তথ্য ভুল থাকলে আবেদন করার আগে তা সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন করলে বয়স যাচাই-সংক্রান্ত জটিলতা এড়ানো সহজ হয়।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বয়সে ছাড়
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নীতিমালায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য বয়স নির্ধারণে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের অতিরিক্ত ছাড় দেওয়ার বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই ছাড় কীভাবে প্রয়োগ হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নীতিমালার শর্ত ও বিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। প্রয়োজন হলে আবেদন করার আগে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে নেওয়া উচিত।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের স্কুল ভর্তি নীতিমালায় আরও যা রয়েছে
স্কুলে ভর্তি ২০২৭ নীতিমালায় বয়সসীমার পাশাপাশি শিক্ষাবর্ষ, ভর্তি পদ্ধতি এবং শ্রেণিপ্রতি শিক্ষার্থীসংখ্যা সম্পর্কেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
- শিক্ষাবর্ষ: ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭।
- প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি: লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।
- দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি: প্রকাশিত নীতিমালা অনুযায়ী লিখিত ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।
- শ্রেণিপ্রতি শিক্ষার্থীসংখ্যা: প্রতিটি শ্রেণির একটি শাখায় সর্বোচ্চ ৫৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে।
- ভর্তির পরিধি: প্রবেশ শ্রেণি প্রথম থেকে শুরু করে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি করা যাবে।
ভর্তি পদ্ধতি, আবেদন শুরুর তারিখ, শেষ তারিখ, পরীক্ষার সময়সূচি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
স্কুলে ভর্তি ২০২৭ নিয়ে অভিভাবকদের করণীয়
সন্তানকে সরকারি বা বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে চাইলে অভিভাবকদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। প্রথমে সন্তানের জন্মতারিখ অনুযায়ী বয়সসীমা যাচাই করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি, আবেদনপদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে খোঁজ নিতে হবে।
প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য লটারির নিয়ম এবং দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য লিখিত পরীক্ষার নির্দেশনা থাকায় প্রস্তুতির ধরনও আলাদা হতে পারে। তাই বিদ্যালয়ের প্রকাশিত নির্দেশনা অনুসারে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া ভালো।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আবেদন করার আগে বয়সসীমা ও ভর্তির যোগ্যতা নিশ্চিত করা। এতে ভুল শ্রেণিতে আবেদন বা বয়সসংক্রান্ত জটিলতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

শেষ কথা
স্কুলে ভর্তি ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীর বয়সসীমা জানা অভিভাবকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত বয়স অনুযায়ী প্রথম শ্রেণিতে ৫ থেকে ৭ বছর এবং নবম শ্রেণিতে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়স হতে হবে। মাঝের শ্রেণিগুলোর বয়সসীমা উপরের টেবিলে দেওয়া হয়েছে।
তাই আবেদন করার আগে জন্মনিবন্ধন সনদ যাচাই করুন, সন্তানের বয়সের সঙ্গে শ্রেণির বয়সসীমা মিলিয়ে নিন এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সর্বশেষ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করুন। এতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি-প্রক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
১. স্কুলে ভর্তি ২০২৭-এ প্রথম শ্রেণিতে বয়স কত হতে হবে?
প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ১ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে শিক্ষার্থীর বয়স সর্বনিম্ন ৫ বছর এবং সর্বোচ্চ ৭ বছর হতে পারবে।
২. দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তির বয়স কত?
দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীর বয়স ৬ থেকে ৮ বছর হতে হবে।
৩. ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির বয়স কত?
ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য বয়সসীমা ১০ থেকে ১২ বছর।
৪. নবম শ্রেণিতে ভর্তির বয়স কত?
নবম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীর বয়স ১৩ থেকে ১৫ বছর হতে হবে।
৫. ভর্তির বয়স যাচাই করতে কী কাগজপত্র লাগবে?
নীতিমালা অনুযায়ী, আবেদনপত্রের সঙ্গে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে হবে।
৬. বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা কি বয়সে ছাড় পাবে?
হ্যাঁ। নীতিমালায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স নির্ধারণে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের অতিরিক্ত ছাড় দেওয়ার বিধান রয়েছে।
৭. ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে স্কুলে ভর্তি কবে শুরু হবে?
আবেদন শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ জানতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
প্রতিবেদকঃ কুলসুম আকতার শিমু

নাইয়ার আযম একজন নিবেদিতপ্রাণ পদার্থবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক। তিনি মজিদা খাতুন মহিলা কলেজ,রংপুর এ কর্মরত আছেন এবং studentbarta.com-ওয়েব সাইডের সম্পাদক। তিনি শিক্ষা ও অনলাইন শিক্ষার প্রতি গভীরভাবে অনুরাগী এবং নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করার মতো চিন্তাশীল লেখা প্রকাশ করেন। তার শিক্ষা জীবন শুরু হয় ক্যান্ট পাবলিক স্কুল থেকে এবং পরবর্তীতে তিনি কারমাইকেল কলেজ, রংপুর-এ উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। বর্তমানে রংপুর সিটি-তে বসবাসরত নাইয়ার আযম সবসময় শিক্ষা, অনলাইন লার্নিং এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে আগ্রহী। পদার্থবিজ্ঞানের জ্ঞানকে সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন এবং আধুনিক শিক্ষার সুযোগ প্রসারে তিনি বিশেষভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।