ইউপি নির্বাচন ২০২৭: জানুয়ারি থেকে ভোটের প্রস্তুতি, কেন পিছিয়ে যাচ্ছে নির্বাচন?

ইউপি নির্বাচন ২০২৭ নিয়ে নতুন করে সময়সূচি ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শিক্ষার্থীদের বার্ষিক ও পাবলিক পরীক্ষা, বন্যার কারণে পিছিয়ে যাওয়া পরীক্ষা এবং বছরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সময় বিবেচনায় নিয়ে নভেম্বর-ডিসেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজন না করার চিন্তা করছে কমিশন। পরীক্ষা শেষ হলে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। তবে এখনো ভোটের নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ২৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তাই নভেম্বর ও ডিসেম্বরের পরীক্ষার সময় বাদ দিয়ে পরবর্তী সময়ে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

ইউপি নির্বাচন ২০২৭ কবে হতে পারে?

ইউপি নির্বাচন ২০২৭-এর ভোট কবে হবে-এ প্রশ্নের এখনো নির্দিষ্ট উত্তর দেয়নি নির্বাচন কমিশন। তবে ইসি কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন,

নভেম্বর-ডিসেম্বরের পরীক্ষার সময় নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ তারা আপাতত দেখছেন না।

পরীক্ষা শেষ হলে জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার আশা করছে কমিশন।

এর আগে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কয়েক ধাপে আয়োজনের একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা করেছিল ইসি।

সেই পরিকল্পনায় নভেম্বর থেকেই ভোট শুরু করার কথা ভাবা হয়েছিল।

কিন্তু পরবর্তী আলোচনা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনায় সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কেন পিছিয়ে যাচ্ছে ইউপি নির্বাচন?

নির্বাচন পেছানোর অন্যতম কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা সামনে এসেছে।

নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে কিছু স্থগিত পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ও রয়েছে।

ফলে এই সময় ভোট হলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছে ইসি।

এ ছাড়া বন্যার কারণে কিছু শিক্ষার্থীর পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী,

ভোটের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে এসব বাস্তব পরিস্থিতি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

রমজান, ঈদ ও পরীক্ষাও বিবেচনায়

শুধু বার্ষিক পরীক্ষা নয়, ইউপি নির্বাচন ২০২৭-এর সময়সূচি নির্ধারণে আরও কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করছে নির্বাচন কমিশন।

এর মধ্যে রয়েছে রমজান, ঈদ, পূজা, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা।

এসব গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করেই ভোটের সময় নির্ধারণ করতে চায় কমিশন।

ফলে নভেম্বর-ডিসেম্বরে নির্বাচন আয়োজনের পরিবর্তে জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করার সম্ভাবনাই এখন সামনে এসেছে।

আগে কী পরিকল্পনা করেছিল ইসি?

সেপ্টেম্বরে নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কয়েক ধাপে আয়োজনের একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল।

ওই প্রাথমিক পরিকল্পনায় প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর করার কথা বিবেচনা করা হয়েছিল।

পরবর্তী ধাপগুলো ২০২৭ সালের বিভিন্ন সময়ে আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনাও ছিল। তবে এসব তারিখ চূড়ান্ত ছিল না।

পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে আলোচনা এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সময়সূচিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

জানুয়ারিতে নির্বাচন শুরু হলে তফসিল কবে?

জানুয়ারিতে ভোট শুরু করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তার আগে তফসিল ঘোষণা করতে হবে।

আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, জানুয়ারির ভোটের প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা হতে পারে।

সে হিসেবে নভেম্বরের দিকে তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। তবে তফসিল ঘোষণার আগে কোনো তারিখকে চূড়ান্ত বলা যাবে না।

এ কারণে ইউপি নির্বাচনের তফসিল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ভোটের নির্দিষ্ট দিন নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা ঠিক হবে না।

সরকারের চাপে নির্বাচন পেছাচ্ছে কি?

ইউপি নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারের কোনো চাপ রয়েছে কি না-এমন প্রশ্নও উঠেছে।

তবে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন,

সরকারের চাপে নির্বাচন পেছানো হচ্ছে না।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কমিশন সংবিধান, আইন এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করেই নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করে।

অর্থাৎ নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও অন্যান্য বাস্তব বিষয়ই সময় পরিবর্তনের প্রধান বিবেচনা।

ধাপে ধাপে হবে ইউপি নির্বাচন

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন একদিনে দেশের সব ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিবর্তে ধাপে ধাপে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে ইসি জানিয়েছিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচন পর্যায়ক্রমে আয়োজন করা হবে।

তাই ইউপি নির্বাচন ২০২৭ নিয়ে আগ্রহী ভোটার, সম্ভাব্য প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-ইসির চূড়ান্ত তফসিল।

তফসিল প্রকাশের পরই মনোনয়ন, প্রচার ও ভোটগ্রহণের নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাবে।

ভোটার ও প্রার্থীদের এখন কী জানা দরকার?

ইউপি নির্বাচনের চূড়ান্ত তারিখ এখনো ঘোষণা হয়নি।

তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক সূত্রে প্রকাশিত সম্ভাব্য তারিখকে চূড়ান্ত ধরে নেওয়া উচিত নয়।

নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশের পরই ভোটের তারিখ, মনোনয়ন জমা, যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহার ও প্রতীক বরাদ্দের সময়সূচি নিশ্চিত হবে।

ইউপি নির্বাচন ২০২৭: এক নজরে

বিষয়বর্তমান তথ্য
নির্বাচনইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন
সম্ভাব্য সময়জানুয়ারি ২০২৭ থেকে
নভেম্বর-ডিসেম্বরপরীক্ষার কারণে নির্বাচন না করার চিন্তা
নির্বাচন পদ্ধতিধাপে ধাপে
তফসিলএখনো চূড়ান্ত নয়
বিবেচ্য বিষয়বার্ষিক পরীক্ষা, পাবলিক পরীক্ষা, রমজান, ঈদ, পূজা
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠাননির্বাচন কমিশন
গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যনির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার

শেষ কথা

ইউপি নির্বাচন ২০২৭ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা থাকায় ওই সময়ে ভোট আয়োজন না করে জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার কথা ভাবছে কমিশন।

তবে এটি এখনো সম্ভাব্য পরিকল্পনা; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও তফসিল প্রকাশের পরই ভোটের নির্দিষ্ট সময় নিশ্চিত হবে।

তাই ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও ভোটারদের নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ। তফসিল প্রকাশ হলে নির্বাচনের তারিখসহ অন্যান্য তথ্যও স্পষ্ট হবে।

নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ

সম্পাদকঃ মোঃ নাইয়ার আযম