প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬: তথ্য এন্ট্রি ও যাচাই ৮–১১ মার্চের মধ্যে সম্পন্নের নির্দেশ।পাঠকের প্রশ্ন-উত্তর পর্ব

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ উপলক্ষে পরীক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রি, যাচাই ও অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব শিক্ষার্থীর তথ্য সঠিকভাবে অনলাইনে আপলোড ও যাচাই সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি অফিসিয়াল চিঠি দেশের সব উপজেলা ও থানা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের তথ্য পিইএমআইএস (PEMIS) সফটওয়্যারে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এন্ট্রি করতে হবে।

পিইএমআইএসে পরীক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রি (প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা)

নির্দেশনা অনুযায়ী, উপজেলা বা থানার আওতাধীন সব বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তথ্য ডিআর আকারে পিইএমআইএস সফটওয়্যারে এন্ট্রি করতে হবে।

তথ্য এন্ট্রির সময় যে বিষয়গুলো অবশ্যই সংযুক্ত করতে হবে-

  • পরীক্ষার্থীর সাম্প্রতিক ছবি আপলোড
  • শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর
  • প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত ও শিক্ষাগত তথ্য

এসব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেই অনলাইনে জমা দিতে হবে।

তথ্য এন্ট্রির সময়সীমা(প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা)

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ৮ থেকে ১০ মার্চের মধ্যে পরীক্ষার্থীদের সব তথ্য পিইএমআইএস সিস্টেমে এন্ট্রি সম্পন্ন করতে হবে।

তথ্য এন্ট্রি শেষ হলে তা যাচাইয়ের জন্য পাঠাতে হবে-

  • উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ইউপিইও)
  • অথবা সহকারী উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিপিইও)

তথ্য যাচাই ও অনুমোদন প্রক্রিয়া

বিদ্যালয় থেকে পাঠানো তথ্য পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ইউপিইও বা এটিপিইও কর্মকর্তারা তা যাচাই করবেন।

যদি কোনো তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ পাওয়া যায়, তাহলে-

১। সংশোধনের জন্য তথ্য আবার বিদ্যালয়ের আইডিতে ফেরত পাঠানো হবে।
২। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সংশোধন করে পুনরায় তথ্য জমা দেবে।
৩। এরপর যাচাই শেষে চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেওয়া হবে।

এই পুরো যাচাই ও অনুমোদন প্রক্রিয়াটি ৮ থেকে ১১ মার্চের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।

সময়মতো কাজ সম্পন্নের নির্দেশ (প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা)

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫-এর পরীক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রি ও অনুমোদনের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

শিক্ষার্থীদের তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে এই প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

সংক্ষেপে:
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫–এর জন্য শিক্ষার্থীদের তথ্য ৮–১০ মার্চের মধ্যে পিইএমআইএসে এন্ট্রি এবং ৮–১১ মার্চের মধ্যে যাচাই ও অনুমোদন সম্পন্ন করতে হবে।

এজন্য সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাঠকের প্রশ্ন-উত্তর পর্ব (প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা)

১. প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ কী?

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা হলো প্রাথমিক স্তরের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

সাধারণত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে সরকার মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করে থাকে।

এই পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই এবং তাদের উচ্চশিক্ষার জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়।

২. প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫–এর পরীক্ষার্থীদের তথ্য কোথায় এন্ট্রি করতে হবে?

পরীক্ষার্থীদের সব তথ্য পিইএমআইএস (PEMIS) সফটওয়্যারে এন্ট্রি করতে হবে। এই সফটওয়্যারটি পরিচালনা করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের তথ্য এই সিস্টেমে আপলোড করবেন।

৩. তথ্য এন্ট্রির সময় কোন কোন তথ্য দিতে হবে?

পিইএমআইএস সিস্টেমে তথ্য এন্ট্রি করার সময় শিক্ষার্থীদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে হবে। যেমন—

  • শিক্ষার্থীর নাম ও ব্যক্তিগত তথ্য
  • বিদ্যালয়ের তথ্য
  • শিক্ষার্থীর সাম্প্রতিক ছবি
  • শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর
  • প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত তথ্য

এসব তথ্য সঠিকভাবে আপলোড করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলোর ভিত্তিতেই পরীক্ষার্থীর নিবন্ধন সম্পন্ন হয়।

৪. তথ্য এন্ট্রি করার নির্ধারিত সময় কখন

নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ৮ মার্চ থেকে ১০ মার্চের মধ্যে পরীক্ষার্থীদের সব তথ্য পিইএমআইএস সিস্টেমে এন্ট্রি সম্পন্ন করতে হবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য এন্ট্রি না হলে শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে পারে।

৫. তথ্য যাচাই ও অনুমোদন প্রক্রিয়া কীভাবে হবে?

বিদ্যালয় থেকে তথ্য এন্ট্রি সম্পন্ন হওয়ার পর তা যাচাই করবেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ইউপিইও) অথবা সহকারী উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিপিইও)।

যদি কোনো তথ্য ভুল পাওয়া যায়, তাহলে তা সংশোধনের জন্য আবার বিদ্যালয়ের আইডিতে ফেরত পাঠানো হবে।

এরপর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংশোধন করে পুনরায় জমা দেবে এবং যাচাই শেষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।

৬. তথ্য যাচাই ও অনুমোদনের শেষ সময় কখন?

নির্দেশনা অনুযায়ী, তথ্য যাচাই ও অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়াটি ৮ মার্চ থেকে ১১ মার্চের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।

এই সময়ের মধ্যেই সব তথ্য সঠিকভাবে যাচাই ও অনুমোদন শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৭. নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য এন্ট্রি সম্পন্ন না হলে কী হবে?

যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য এন্ট্রি বা যাচাই সম্পন্ন না হয়, তাহলে শিক্ষার্থীর বৃত্তি পরীক্ষার নিবন্ধন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এজন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের সময়মতো কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে। – সূত্র

প্রতিবেদনটি লিখেছেনঃ কুলসুম আকতার শিমু – ৭ মার্চ ২০২৬ইং

সম্পাদক 

মোঃ নাইয়ার আযম,সহকারী অধ্যাপক(পদার্থবিজ্ঞান),মজিদা খাতুন মহিলা কলেজ, রংপুর।