গত জুলাইয়ে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পিএসজির কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার ৪১ দিন পর রিয়াল মাদ্রিদ লা লিগার নতুন মৌসুম শুরু করেছে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে গতকাল রাতে ওসাসুনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে নতুন মৌসুমে শুভ সূচনা করেছে জাবি আলোনসোর দল। ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি থেকে। এই ম্যাচটি ছিল আলোনসোর অধীনে রিয়ালের প্রথম লা লিগা ম্যাচ, যেখানে তিনি নতুন এক রিয়াল মাদ্রিদ দেখতে পেয়েছেন। এটি ছিল একটি নতুন যুগের সূচনা, যেখানে রিয়ালের খেলার ধরনে অনেক পরিবর্তন এসেছে, যা আগের মৌসুমের তুলনায় অনেকটাই আলাদা।
আলোনসোর নতুন রিয়াল
রিয়াল মাদ্রিদ গত মৌসুমে কার্লো আনচেলত্তির অধীনে যে খেলাধুলার ধরন অনুসরণ করেছিল, তা ছিল বেশ রক্ষণাত্মক ও প্রতিপক্ষকে বল দখল করতে দেয়ার উপর নির্ভরশীল। তারা বল হারানোর পর দ্রুত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রতিআক্রমণ চালাত। কিন্তু আলোনসো এসে রিয়াল মাদ্রিদকে সেই পুরানো অভ্যাস থেকে বের করে নিয়ে এসেছেন। তার অধীনে, রিয়াল প্রথম ম্যাচ থেকেই বল দখল করে আক্রমণে গিয়েছে এবং প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হয়েছে।
ওসাসুনার বিরুদ্ধে খেলার সময়, রিয়াল পুরো ম্যাচটাই নিয়ন্ত্রণ করেছে। ম্যাচের শুরু থেকেই তাদের পাসিং গেম ছিল অত্যন্ত কার্যকর, এবং তারা আক্রমণ নিয়ে নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করেছে। ওসাসুনা বেশিরভাগ সময়ই বল দখলে রাখতে পারেনি এবং মাত্র ২৯ শতাংশ সময়ই বল তাদের দখলে ছিল। এটা রিয়ালের জন্য একটা বড় জয়, যেহেতু তারা নিজেদের মাঠে এবং নতুন কোচের অধীনে দুর্দান্ত শুরু করেছে।রিয়াল মাদ্রিদে আলোনসো যুগের শুরু তাহলে চলুন ।

আরদা গুলের এবং নতুন মুখের অভিষেক
এই ম্যাচে আলোনসো স্প্যানিশ লেফটব্যাক আলভারো ক্যারেরাস এবং আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনোরও অভিষেক ঘটিয়েছেন। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল তুর্কি অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার আরদা গুলেরের মাঠে নামানো। ২০ বছর বয়সী গুলের রিয়ালের পক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি সবচেয়ে বেশি সফল পাস (৭২টি) খেলেছেন, এবং মাত্র ৬টি ভুল পাস দিয়েছেন। এ থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় যে, তিনি টনি ক্রুস ও লুকা মদরিচের শূন্যতা পূরণের চেষ্টা করছেন এবং নতুন মৌসুমে রিয়ালের মধ্যমাঠের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হতে যাচ্ছেন।
ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের প্রেসিং এবং দলীয় কর্মতৎপরতা
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের চমৎকার প্রেসিং। বল হারানোর পর রিয়ালের খেলোয়াড়েরা তা পুনরুদ্ধারের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে, যা দর্শকদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। ভিনিসিয়ুস মাঠে সবসময় সক্রিয় ছিলেন এবং বল দখলের জন্য প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেছেন। তার সহায়তায় রিয়াল ম্যাচে ৬৬০টি পাস খেলেছে, যা ওসাসুনার পাসের সংখ্যা থেকে প্রায় তিন গুণ বেশি। এই কাজের মাধ্যমে রিয়াল তাদের খেলায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে এবং প্রতিপক্ষকে একেবারে মাঠের মধ্যে আটকে দিয়েছে।
বেলিংহামের অভাব এবং আক্রমণভাগের সমস্যা
তবে রিয়ালের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল জুড বেলিংহামের অনুপস্থিতি। বেলিংহাম সাধারণত রিয়ালের আক্রমণভাগে সৃষ্টিশীলতা নিয়ে আসেন। তিনি বিশেষভাবে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে আক্রমণ তৈরি করতে দক্ষ। কিন্তু কাঁধের অস্ত্রোপচার থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায়, বেলিংহাম এই ম্যাচে খেলার সুযোগ পাননি। তার অভাবটা রিয়ালের আক্রমণের ধারাকে দুর্বল করেছে। প্রতিপক্ষের রক্ষণে ভিনিসিয়ুসের ওপর নির্ভরতা বেড়ে গেছে, কিন্তু যখন ভিনি কাটাতে পারেননি এবং এমবাপ্পে কড়া মার্কিংয়ে ছিলেন, তখন রিয়ালের আক্রমণকে তেমন বিপজ্জনক মনে হয়নি। এর ফলে আক্রমণের গতি কিছুটা কমে গেছে, এবং কিছু অংশে একগুঁয়ে মনে হয়েছে।
ট্রেন্ট আলেক্সান্দার-আর্নল্ডের অনুজ্জ্বল অভিষেক
নতুন মৌসুমে রিয়ালের সবচেয়ে আলোচিত সাইনিং ছিল লিভারপুল থেকে আনা ট্রেন্ট আলেক্সান্দার-আর্নল্ড। কিন্তু তার অভিষেক ম্যাচটি খুবই অনুজ্জ্বল ছিল। তিনি ৬৮ মিনিট মাঠে ছিলেন, কিন্তু কার্যকর কিছু করতে পারেননি। তিনি সাতটি ক্রসের মধ্যে একটিই লক্ষ্যে দিতে পেরেছিলেন, এবং তার ট্যাকলগুলোও সফল হয়নি। পাশাপাশি, বল দখলের লড়াইয়ে তিনি প্রতিবারই পরাজিত হয়েছেন। রিয়ালের আক্রমণ মূলত বাঁ প্রান্ত দিয়ে সাজানো হয়েছিল, যার ফলে ট্রেন্ট বেশিরভাগ সময় ডান প্রান্তে একা পড়ে যান।
ট্রেন্টের জন্য এই পরিস্থিতি কিছুটা কঠিন ছিল, কারণ রিয়ালের মাঝমাঠের পাসিং গেম তাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারেনি। তাকে কার্যকর ভূমিকায় দেখতে হলে, আলোনসোকে রিয়ালের আক্রমণকে নতুনভাবে সাজানোর জন্য কিছু পরিকল্পনা করতে হবে। আলোনসোর অধীনে রিয়াল মাদ্রিদ
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
নতুন মৌসুমে রিয়ালের খেলায় যেসব পরিবর্তন এসেছে, তা অবশ্যই আগের মৌসুমের তুলনায় বেশ উন্নত। আলোনসোর অধীনে রিয়াল এখন আক্রমণাত্মক এবং বল দখলে থাকার দিক থেকে বেশি সক্রিয়। তবে কিছু জায়গায় আরও উন্নতির প্রয়োজন। বেলিংহামের অভাব, ট্রেন্টের অনুজ্জ্বল পারফরম্যান্স এবং আক্রমণের ধারায় কিছু অসঙ্গতি রয়েছে, যা পরবর্তী ম্যাচগুলোতে সংশোধন করা হতে পারে। তবে মোটের ওপর, আলোনসোর নতুন দলে বেশ কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে, এবং এই মৌসুমে তাদের খেলার ধরনে যে পরিবর্তন এসেছে, তাতে অনেকগুলো দিক থেকে তারা নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করবে। আলোনসোর অধীনে রিয়াল মাদ্রিদ
এই রকম আরো পোষ্ট পেতে নিচের লিঙ্ক ফলো করুন ।
আনারসের ক্ষতিকর দিক (Pineapple Side Effects): মিষ্টি শ্বাদের আড়ালে সাইলেন্ট কিলার