ট্রাম্পের পলায়ন – মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
ইরান থেকে সম্ভাব্য হত্যার হুমকির আশঙ্কায় তুরস্ক থেকে যুক্তরাজ্যে ফেরার সময় ট্রাম্পের জন্য নেওয়া হয়েছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা কৌশল।
প্রকাশ্য এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠার পর গোপনে তাকে বের করে একটি বিমানবন্দরের ক্যাটারিং ট্রাকে করে অন্য একটি সামরিক বিমানে নেওয়া হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ট্রাম্পের পলায়ন
ঘটনাটি ঘটে গত মাসে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর।
সম্মেলন শেষে ট্রাম্পকে স্বাভাবিক নিয়মেই এয়ারফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখা যায়।
উপস্থিত সাংবাদিকদেরও ধারণা ছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওই বিমানেই যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
কিন্তু বাস্তবে ঘটেছিল ভিন্ন ঘটনা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠার কিছুক্ষণ পর নিরাপত্তার কারণে ট্রাম্পকে সেখান থেকে গোপনে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এরপর বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং ট্রাক ব্যবহার করে তাকে অন্য একটি সামরিক বিমানের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।
ট্রাম্পের পলায়ন
সেই বিমানটি ছিল সি-৩২এ মডেলের সামরিক বিমান।
ট্রাম্প ওই বিমানে উঠে গোপনে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে যাত্রা করেন। অন্যদিকে সাংবাদিক ও কয়েকজন কর্মকর্তা তখনও এয়ারফোর্স ওয়ানেই ছিলেন।
ফলে প্রেসিডেন্ট কোন বিমানে রয়েছেন, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
পরিস্থিতিকে আরও গোপন রাখতে সাংবাদিকদের বিমানের জানালার শেড নামিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বাইরে বিমানবন্দরে কী ধরনের তৎপরতা চলছে, তা সাংবাদিকদের পক্ষে দেখা কঠিন হয়ে পড়ে।
কেন হলো ট্রাম্পের এই গোপন পলায়ন?।ট্রাম্পের পলায়ন
এই পুরো পরিকল্পনার পেছনে ছিল প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর আশঙ্কা।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান থেকে ট্রাম্পকে হত্যার হুমকির আশঙ্কাকে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছিলেন।
ট্রাম্পের পলায়ন
এ কারণেই ট্রাম্পের প্রকৃত অবস্থান গোপন রাখা এবং তার যাত্রাপথ সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি করার কৌশল নেওয়া হয়।
একটি বিমানে তাকে প্রকাশ্যে উঠতে দেখিয়ে পরে অন্য বিমানে সরিয়ে নেওয়ার ফলে সম্ভাব্য হামলাকারীদের জন্য তার অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
সাংবাদিকদেরও রাখা হয়েছিল অন্ধকারে । ট্রাম্পের পলায়ন
ট্রাম্পের এই যাত্রা পরিকল্পনার সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক ছিল-তার সঙ্গে থাকা সাংবাদিকদের একটি অংশও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিষয়টি জানতে পারেননি।
তারা যে বিমানে ট্রাম্প রয়েছেন বলে মনে করেছিলেন, সেটি পরে আলাদাভাবে গন্তব্যে পৌঁছায়।
অন্যদিকে ট্রাম্প আগেই অন্য একটি সামরিক বিমানে করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছে যান।
পরে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যাওয়ায় পুরো ঘটনাটি আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে।
নিরাপত্তার জন্য এমন নজিরবিহীন কৌশল।ট্রাম্পের পলায়ন
মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলোর একটি।
সাধারণত এয়ারফোর্স ওয়ান, নিরাপত্তা বহর ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের যাতায়াত পরিচালিত হয়।
সেখানে একটি ক্যাটারিং ট্রাক ব্যবহার করে প্রেসিডেন্টকে এক বিমান থেকে অন্য বিমানে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী।
তবে ঘটনাটিকে শুধু চমকপ্রদ ‘ট্রাম্পের পলায়ন’ হিসেবে দেখলে এর মূল কারণটি আড়ালে পড়ে যায়।
এর পেছনে ছিল সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি কমানো এবং প্রেসিডেন্টের অবস্থান গোপন রাখার একটি নিরাপত্তা কৌশল।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পকে ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
আর সেই ঝুঁকি এড়াতেই প্রকাশ্য যাত্রার আড়ালে এমন গোপন পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ফলে ‘ট্রাম্পের পলায়ন’ এখন শুধু একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা নয়; বরং একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সম্ভাব্য হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কতটা কঠোর ও গোপন কৌশল নেওয়া হতে পারে, তারও একটি আলোচিত উদাহরণ।
পাঠকের প্রশ্ন ও উত্তর: ইরানের হুমকিতে ট্রাম্পের পলায়ন ও গোপন বিমান বদলের ঘটনা
১. ট্রাম্পের পলায়ন বলতে আসলে কী বোঝানো হচ্ছে?
‘ট্রাম্পের পলায়ন’ বলতে এখানে কোনো অপরাধ বা পরাজয়ের কারণে পালিয়ে যাওয়াকে বোঝানো হচ্ছে না।
তুরস্ক থেকে যুক্তরাজ্যে ফেরার সময় সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি এড়াতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গোপনে একটি বিমান থেকে অন্য বিমানে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকেই এভাবে বলা হচ্ছে।
প্রকাশ্যে তাকে এয়ারফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখা গেলেও পরে তিনি ক্যাটারিং ট্রাকের মাধ্যমে একটি ছোট সামরিক বিমানে চলে যান।
২. ঘটনাটি কোথায় এবং কখন ঘটেছিল?।ট্রাম্পের পলায়ন
ঘटनাটি ঘটে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর।
৮ জুলাই ট্রাম্পের তুরস্ক ত্যাগের সময় এই গোপন নিরাপত্তা অভিযান চালানো হয় বলে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
৩. কেন ট্রাম্পকে গোপনে বিমান বদলাতে হলো?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের বহনকারী বিমান সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্য হতে পারে-এমন একটি বিশ্বাসযোগ্য ও তাৎক্ষণিক হুমকি সম্পর্কে মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তথ্য পান।
ইরানের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে এই হুমকিকে গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করে ট্রাম্পের যাত্রাপথ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় সিক্রেট সার্ভিস।
৪. ট্রাম্প কি সত্যিই খাবারের ট্রাকে লুকিয়েছিলেন।ট্রাম্পের পলায়ন
‘খাবারের ট্রাকে লুকিয়েছিলেন’-এটি ঘটনাটির নাটকীয় বর্ণনা।
বাস্তবে বিমানবন্দরের ক্যাটারিং ট্রাক ব্যবহার করে ট্রাম্পকে একটি বিমান থেকে অন্য বিমানে গোপনে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
ট্রাকটি সাধারণত বিমানে খাবার ও সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়।
অর্থাৎ ট্রাকটি কোনো পালানোর গাড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি; বরং প্রেসিডেন্টের অবস্থান গোপন রাখার জন্য নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এটি ব্যবহার করা হয়।
৫. ট্রাম্প কোন বিমানে উঠেছিলেন?।ট্রাম্পের পলায়ন
প্রথমে ক্যামেরার সামনে ট্রাম্পকে পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখা যায়।
পরে সেখান থেকে তাকে সরিয়ে অপেক্ষাকৃত ছোট C-32A সামরিক বিমানে নেওয়া হয়।
ওই বিমানেই তিনি তুরস্ক থেকে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
C-32A মূলত মার্কিন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সামরিক বিমান।
প্রেসিডেন্ট এতে থাকলে সেটিও আনুষ্ঠানিকভাবে ‘Air Force One’ কলসাইন ব্যবহার করতে পারে।
তবে এই বিশেষ যাত্রায় গোপনীয়তার জন্য ভিন্ন কলসাইন ব্যবহারের তথ্যও প্রতিবেদনে এসেছে।
৬. তাহলে এয়ারফোর্স ওয়ানে কে ছিলেন?।ট্রাম্পের পলায়ন
ট্রাম্পের পরিবর্তে ওই বিমানে ছিলেন প্রশাসনের কর্মকর্তা, হোয়াইট হাউসের কর্মী এবং সাংবাদিকদের একটি দল।
ফলে বাইরে থেকে দেখে মনে হচ্ছিল প্রেসিডেন্ট এখনও ওই বিমানেই রয়েছেন।
এই বিমানটি কার্যত একটি ‘ডিকয়’ বা বিভ্রান্তিমূলক বিমান হিসেবে কাজ করেছিল।
৭. সাংবাদিকরা কেন বুঝতে পারেননি যে ট্রাম্প বিমানে নেই?।ট্রাম্পের পলায়ন
সাংবাদিকদের অনেকেই ট্রাম্পকে এয়ারফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখেছিলেন।
এরপর তারা নিজেরাও সেই বিমানে ওঠেন। বিমান ছাড়ার আগ পর্যন্ত ট্রাম্পকে গোপনে অন্য বিমানে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তাদের জানানো হয়নি।
এমনকি বিমানের জানালার শেড নামিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে বাইরে বিমানবন্দরে কী ঘটছে, তা সাংবাদিকদের পক্ষে পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
৮. ট্রাম্পের সঙ্গে কারা ক্যাটারিং ট্রাকে ছিলেন।ট্রাম্পের পলায়ন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের সঙ্গে কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীও ক্যাটারিং ট্রাকে করে অন্য বিমানে যান।
তাদের মধ্যে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ড্যান স্ক্যাভিনো, নির্বাহী সহকারী ন্যাটালি হার্প এবং ওভাল অফিস অপারেশনের পরিচালক ওয়াল্ট নাউটা।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্যাবিনেট পর্যায়ের কর্মকর্তারা সবাই ওই ট্রাকে ছিলেন না।
৯. ট্রাম্প কি ইরানের হামলার শিকার হয়েছিলেন?।ট্রাম্পের পলায়ন
না। ট্রাম্পের ওপর কোনো হামলা হয়েছে-এমন তথ্য নেই। বরং সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মকর্তারা এমন একটি সম্ভাব্য হুমকিকে বিশ্বাসযোগ্য ও তাৎক্ষণিক বলে মনে করেছিলেন, যদিও হামলার বাস্তবায়নের কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা ছিল কি না, তা নিশ্চিত ছিল না।
১০. হুমকিটি কেমন ছিল?
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আশঙ্কা ছিল কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ট্রাম্পের বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
প্রতিবেদনে সম্ভাব্যভাবে তাপ অনুসরণকারী ক্ষেপণাস্ত্রের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে নির্দিষ্টভাবে কে বা কোন সংগঠন হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
তাই এটিকে নিশ্চিত হামলার পরিকল্পনা হিসেবে নয়, বরং নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের পাওয়া গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখা উচিত।
১১. কেন পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানকে সামনে রাখা হয়েছিল?।ট্রাম্পের পলায়ন
এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ট্রাম্পের প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি করা।
ট্রাম্প প্রকাশ্যে একটি বিমানে উঠলেন, সাংবাদিকরাও সেই বিমানে থাকলেন এবং বিমানটি পরে যুক্তরাজ্যের দিকে রওনা হলো।
এতে সম্ভাব্য হামলাকারীদের পক্ষে ট্রাম্প কোন বিমানে আছেন, তা শনাক্ত করা কঠিন হওয়ার কথা।
১২. ট্রাম্প কি পরে আবার ওই এয়ারফোর্স ওয়ানে দেখা দেন?
হ্যাঁ। যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পর ট্রাম্পকে পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ান থেকে নামতে দেখা যায়।
এতে বাইরে থেকে মনে হওয়ার সুযোগ তৈরি হয় যে তিনি তুরস্ক থেকে ওই বিমানেই এসেছেন।
প্রকৃতপক্ষে তার আসল যাত্রাপথ ছিল ভিন্ন।
১৩. ট্রাম্পের গোপন যাত্রা কতটা সফল হয়েছিল?।ট্রাম্পের পলায়ন
নিরাপত্তার দিক থেকে ট্রাম্প নিরাপদেই যুক্তরাজ্যে পৌঁছান।
তবে ঘটনাটি পরে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় পুরো গোপন অভিযান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে যে বিমানটিতে সাংবাদিক ও অন্যান্য কর্মকর্তারা ছিলেন, সেটিকে ডিকয় হিসেবে ব্যবহার করা কতটা নিরাপদ ছিল-তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
১৪. ট্রাম্প নিজে কি বিমান বদলের বিষয়টি স্বীকার করেছেন?
হ্যাঁ। পরে ট্রাম্প জানান, সিক্রেট সার্ভিসের নির্দেশেই তিনি তুরস্কে বিমান পরিবর্তন করেছিলেন।
তিনি আরও দাবি করেন, যে ছোট বিমানে তিনি শেষ পর্যন্ত যাত্রা করেছিলেন, সেটিও ঝুঁকিমুক্ত ছিল না এবং তার মতে সেটি অন্য বিমানের তুলনায় আরও বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারে।
১৫. এই ঘটনায় ইরানের ভূমিকা কি নিশ্চিত?।ট্রাম্পের পলায়ন
এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ইরান সরাসরি এই নির্দিষ্ট হামলা পরিকল্পনা করেছিল-এমন চূড়ান্ত প্রমাণ সামনে আসেনি।
নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ইরান-সম্পর্কিত সম্ভাব্য হুমকির আশঙ্কা করেছিলেন এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছিলেন।
তাই সংবাদে ‘ইরানের ভয়ে ট্রাম্পের পলায়ন’ বলা হলেও আরও নির্ভুল ভাষা হবে-ইরান-সম্পর্কিত সম্ভাব্য হামলার হুমকির আশঙ্কায় ট্রাম্পের গোপন বিমান পরিবর্তন।
১৬. কেন ঘটনাটি এত আলোচনায় এসেছন।ট্রাম্পের পলায়ন
ঘটনাটির সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো-মার্কিন প্রেসিডেন্টকে প্রকাশ্যে একটি বিমানে উঠতে দেখানোর পর কয়েক মিনিটের মধ্যে ক্যাটারিং ট্রাক ব্যবহার করে গোপনে অন্য বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এমনকি তার সঙ্গে থাকা সাংবাদিকদেরও পুরো বিষয়টি জানানো হয়নি।
ফলে ঘটনাটি শুধু ট্রাম্পের নিরাপত্তা নয়, প্রেসিডেন্টের গোপন যাতায়াল, সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা এবং জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
১৭. ‘ট্রাম্পের পলায়ন’ শিরোনামটি কি পুরোপুরি সঠিক?
‘ট্রাম্পের পলায়ন’ পাঠক আকর্ষণকারী একটি শিরোনাম হলেও সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা জরুরি।
এটি কোনো পরাজয় বা আতঙ্কে পালিয়ে যাওয়া নয়। বরং সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি কমাতে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের পরিকল্পনায় প্রেসিডেন্টকে গোপনে অন্য বিমানে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
তাই প্রতিবেদনে ‘ট্রাম্পের পলায়ন’ ফোকাস কিওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করা গেলেও মূল লেখায় ঘটনাটিকে গোপন নিরাপত্তা অভিযান, বিমান পরিবর্তন বা নিরাপত্তাজনিত গোপন স্থানান্তর হিসেবে বর্ণনা করা বেশি তথ্যনির্ভর।
১৮. পাঠকের জন্য মূল বিষয়টি কী?।ট্রাম্পের পলায়ন
পুরো ঘটনার সারকথা হলো-তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্প প্রকাশ্যে পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠেন।
পরে সম্ভাব্য হামলার হুমকির কারণে তাকে ক্যাটারিং ট্রাকের মাধ্যমে গোপনে বের করে C-32A সামরিক বিমানে নেওয়া হয়।
সাংবাদিক ও কয়েকজন কর্মকর্তা ডিকয় হিসেবে ব্যবহৃত বিমানে থেকে যান। ট্রাম্প নিরাপদে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পর আবার প্রকাশ্যে দেখা দেন।
সংক্ষেপে।ট্রাম্পের পলায়ন
ট্রাম্পের পলায়ন আসলে কী?
– নিরাপত্তার কারণে গোপন বিমান পরিবর্তন।
কোথায়?
– আঙ্কারা, তুরস্ক।
কখন?
– ৮ জুলাই ২০২৬।
কেন?
– সম্ভাব্য গুরুতর ক্ষেপণাস্ত্র/হামলার হুমকি।
কীভাবে?
– ক্যাটারিং ট্রাকে করে বিমান বদল।
কোন বিমানে?
– C-32A সামরিক বিমান।
সাংবাদিকরা জানতেন?
– অধিকাংশই জানতেন না।
ট্রাম্প নিরাপদ ছিলেন?
– হ্যাঁ, তিনি নিরাপদে যুক্তরাজ্যে পৌঁছান।
ইরান হামলা করেছিল?
– এই ঘটনায় হামলা হয়নি; ইরান-সম্পর্কিত সম্ভাব্য হুমকির আশঙ্কায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
প্রতিবেদকঃ কুলসুম আকতার শিমু
সম্পাদক-

নাইয়ার আযম একজন নিবেদিতপ্রাণ পদার্থবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক। তিনি মজিদা খাতুন মহিলা কলেজ,রংপুর এ কর্মরত আছেন এবং studentbarta.com-ওয়েব সাইডের সম্পাদক। তিনি শিক্ষা ও অনলাইন শিক্ষার প্রতি গভীরভাবে অনুরাগী এবং নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করার মতো চিন্তাশীল লেখা প্রকাশ করেন। তার শিক্ষা জীবন শুরু হয় ক্যান্ট পাবলিক স্কুল থেকে এবং পরবর্তীতে তিনি কারমাইকেল কলেজ, রংপুর-এ উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। বর্তমানে রংপুর সিটি-তে বসবাসরত নাইয়ার আযম সবসময় শিক্ষা, অনলাইন লার্নিং এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে আগ্রহী। পদার্থবিজ্ঞানের জ্ঞানকে সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন এবং আধুনিক শিক্ষার সুযোগ প্রসারে তিনি বিশেষভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।