ডায়াবেটিসে ভিটামিনের অভাব হয়। ডায়াবেটিস বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত-বর্ধনশীল স্বাস্থ্য সমস্যা গুলোর মধ্যে একটি। বাংলাদেশে প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ নতুন করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়। ডায়াবেটিস নিয়ে মানুষের মাঝে অনেক ধরনের প্রশ্ন দেখা যায়। তার মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত প্রশ্ন হলো-
ডায়াবেটিস কি কোন ভিটামিন অভাব এ হয়?
অনেকে মনে করে যে ভিটামিন কম থাকলে সুগার বেড়ে যায় বা সরাসরি ডায়াবেটিস শুরু হয়। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান ভিন্ন কথা বলে। এই আর্টিকেলে আমরা তা খুব সহজ ভাষায় জানার চেস্টা করবো-
- ডায়াবেটিস আসলে কী?
- ডায়াবেটিস কেন হয়?
- কোন ভিটামিনের অভাবে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে?
- কোন ভিটামিনগুলো ডায়াবেটিস রোগীর জন্য অপরিহার্য?
- কোন খাবারে এসব ভিটামিন পাওয়া যায়?
- ডায়াবেটিস রোগীরা কীভাবে ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ করবেন?
- ডায়াবেটিস ও ভিটামিন নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা
এই আর্টিকেলটি দীর্ঘ, বিস্তারিত ও তথ্যভিত্তিক। আপনি যদি ডায়াবেটিস সম্পর্কে সত্য জানার আগ্রহ রাখেন, তবে এটি সম্পূর্ণ পড়লেই আপনার সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।
ডায়াবেটিস: এটি আসলে কী?। ডায়াবেটিসে ভিটামিনের অভাব
ডায়াবেটিস হলো একটি মেটাবলিক ডিজঅর্ডার যেখানে শরীর ইনসুলিন নামক হরমোন সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না অথবা যথেষ্ট ইনসুলিন উৎপাদন করতে পারে না। ফলে রক্তে গ্লকোজ বা সুগারের মাত্রা বেড়ে যায়।
ইনসুলিনের কাজ-
- রক্তের গ্লকোজকে কোষে প্রবেশ করানো
- শক্তি তৈরি করা
- গ্লকোজ জমা রাখা
যখন ইনসুলিন কমে যায় বা ঠিকমতো কাজ করে না, তখনই ডায়াবেটিস দেখা দেয়।
ডায়াবেটিস কেন হয়? (ভিটামিনের কারণে নয়)
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো-
কোনো ভিটামিনের অভাবে ডায়াবেটিস হয় না।
ডায়াবেটিস হওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো-
- জেনেটিক বা পরিবারগত কারণঃ যাদের পরিবারের কেউ ডায়াবেটিস রোগী, তাদের ঝুঁকি বেশি।
- অতিরিক্ত ওজনঃ স্থলতা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়ায়।
- শারীরিক পরিশ্রম কমঃ নিয়মিত ব্যায়াম না করলে ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ করে না।
- অস্বাস্থ্যকর খাদ্যঃ চিনি, ময়দা, ভাজাপোড়া, বেশি কার্বোহাইড্রেট-
এগুলো ইনসুলিনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। - স্ট্রেসঃ কর্টিসল হরমোন বাড়িয়ে সুগার বাড়িয়ে দেয়।
- নিদ্রাহীনতাঃ ঘুম কম হলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বেড়ে যায়।
- বয়সঃ বয়স বেশি হলে ঝুঁকি বাড়ে।
- স্পষ্টভাবে বলা যায়-
- ভিটামিনের অভাব ডায়াবেটিসের সরাসরি কারণ নয়।
- কিন্তু কিছু ভিটামিন কম থাকলে শরীর ডায়াবেটিসের মতো রোগের দিকে আরও দ্রুত এগোতে পারে।
তাহলে কোন ভিটামিনের অভাবে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে? (বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা)
ডায়াবেটিস না হলেও কিছু ভিটামিনের ঘাটতি দেহের বিভিন্ন কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
ফলে শরীর ইনসুলিনের প্রতি কম সাড়া দেয়, আর তাতেই তৈরি হয় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স-যা টাইপ–২ ডায়াবেটিসের মূল কারণ।
চলুন গবেষণা-সমর্থিত তথ্য অনুযায়ী বিস্তারিত জানি-
১. ভিটামিন D – ডায়াবেটিসের সাথে সবচেয়ে বেশি সম্পর্কিত ভিটামিন
- বিশ্বজুড়ে বহু গবেষণায় দেখা গেছে-
- ভিটামিন D কম থাকলে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি ৩০–৪০% পর্যন্ত বাড়তে পারে।
কারণ:
- ভিটামিন D ইনসুলিন তৈরিতে সরাসরি ভূমিকা রাখে
- কোষকে ইনসুলিন আরও কার্যকরভাবে গ্রহণ করতে সাহায্য করে
- ইনফ্লামেশন কমিয়ে শরীরকে সুস্থ রাখে
ভিটামিন D-এর অভাবে যে সমস্যা হয়:
- ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স
- বারবার ক্লান্তি
- হাড় দুর্বলতা
- ঘুম কম
বাংলাদেশে ৭০% মানুষই ভিটামিন D ঘাটতিতে ভোগেন।
উৎস: রোদ, দই, ডিম, মাছ, দুধ
২. ভিটামিন B12 – মেটফর্মিন ব্যবহারকারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।ডায়াবেটিসে ভিটামিনের অভাব
ডায়াবেটিস রোগীদের দেওয়া সবচেয়ে সাধারণ ওষুধ হলো Metformin।
এটি দীর্ঘদিন খেলে ভিটামিন B12 কমে যায়।
কেন B12 প্রয়োজন?
- স্নায়ুকে সুরক্ষা দেয়
- রক্ত তৈরি করে
- শরীরের শক্তি বাড়ায়
- ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি কমায়
অভাব হলে:
- হাত–পায়ে ঝিনঝিনি
- নার্ভ ড্যামেজ
- দুর্বলতা
- স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া
এগুলো ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠিন করে।
উৎস: মাংস, মাছ, দুধ, ডিম
৩. ভিটামিন B1 (Thiamine) – ডায়াবেটিক জটিলতা কমায়। ডায়াবেটিসে ভিটামিনের অভাব
ভিটামিন B1-এর ঘাটতি ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
এটি গ্লুকোজ ভাঙার গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন।
কাজ:
- ইনসুলিনের কাজকে শক্তিশালী করে
- নিউরোপ্যাথি প্রতিরোধ করে
- হৃৎপিণ্ড সুরক্ষা দেয়
উৎস:
বাদাম, ডাল, ব্রাউন রাইস, মাছ
৪. ভিটামিন C – সুগার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে বেশি ফ্রি-র্যাডিক্যাল থাকে। ভিটামিন C একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট যা-
- ইনফ্লামেশন কমায়
- রক্তে সুগারের ক্ষতি কমায়
- ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে
উৎস: কমলা, লেবু, পেয়ারা, টমেটো
৫. ম্যাগনেসিয়াম – ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ায়
ম্যাগনেসিয়াম কম থাকলে—
- ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়ে
- হরমোন ভারসাম্য নষ্ট হয়
- সুগার নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়
অর্থাৎ, এটি ডায়াবেটিস প্রতিরোধে “গোপন নায়ক”।
উৎস: বাদাম, পালং শাক, ব্রাউন রাইস
৬. জিঙ্ক – ইনসুলিন তৈরিতে প্রয়োজনীয়
জিঙ্ক সরাসরি অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনে সাহায্য করে।
এটি কম থাকলে-
- ক্ষত শুকাতে সময় লাগে
- শরীর দুর্বল হয়
- ইনসুলিন তৈরি কমে যায়
উৎস: মাছ, ডিম, বাদাম
৭. ক্রোমিয়াম — গ্লুকোজ মেটাবলিজমে গুরুত্বপূর্ণ
ক্রোমিয়াম গ্লুকোজ ভাঙতে সাহায্য করে।
এটি ডায়াবেটিস রোগীদের সুগার কন্ট্রোলে সাহায্য করে।
উৎস: ডিম, মাংস, ব্রকোলি
ডায়াবেটিস রোগীরা যে ভিটামিনগুলো নিয়মিত খাবেন
ডাক্তাররা সাধারণত যেগুলো সাজেস্ট করেন-
- Vitamin D3
- Vitamin B12
- Benfotiamine (B1)
- Magnesium
- Zinc
- Chromium Picolinate
- Omega-3
- Multivitamin
কিন্তু নিজে থেকে কখনো ভিটামিন খাবেন না।
রক্ত পরীক্ষা করে তারপর নেওয়া উচিত।
ডায়াবেটিকদের জন্য সবচেয়ে উপকারী ১৫টি খাবার।ডায়াবেটিসে ভিটামিনের অভাব
১) ডিম
২) মাছ (স্যামন, রুই, ইলিশ)
৩) দই
৪) পালং শাক
৫) ব্রোকলি
৬) ব্রাউন রাইস
৭) বিভিন্ন ডাল
৮) বাদাম
৯) বীজ (চিয়া, ফ্ল্যাক্সসিড)
১০) কমলা লেবু
১১) পেয়ারা
১২) কলা
১৩) দুধ
১৪) টমেটো
১৫) অলিভ অয়েল
ভিটামিনের ঘাটতি আছে কিনা-কিভাবে বুঝবেন?
- সারাক্ষণ ক্লান্তি
- মাথা ঝিমঝিম
- মন খারাপ
- হাত–পায়ে ঝিনঝিনি
- ত্বক শুষ্ক
- হাড় ব্যথা
- চুল পড়ে যাওয়া
- ঘন ঘন অসুস্থ হওয়া
এই লক্ষণ থাকলে ভিটামিন টেস্ট করা জরুরি।
ডায়াবেটিস নিয়ে ভুল ধারণা (মিথ বনাম সত্য)। ডায়াবেটিসে ভিটামিনের অভাব
ভিটামিনের অভাবে ডায়াবেটিস হয়ঃ এটি ভুল
মিষ্টি বেশি খেলেই ডায়াবেটিসঃ এটি ভুল – ইহা ইনসুলিনের সমস্যাজনিত রোগ
ডায়াবেটিক হলে ফল খাওয়া যাবে নাঃ এটি ভুল – সঠিক হলো ফল খাওয়া যায়
শুধু ওষুধ খেলেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ হবেঃ ভুল – খাদ্য + ব্যায়াম + জীবনযাপন দরকার
উপসংহার: ডায়াবেটিসে ভিটামিনের অভাব হয়?
সব গবেষণা ও মেডিক্যাল তথ্য অনুযায়ী-
- ডায়াবেটিস কোনো ভিটামিনের অভাবে হয় না।
কিন্তু ভিটামিন D, B12, B1, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক ও ক্রোমিয়ামের ঘাটতি ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং নিয়ন্ত্রণ কঠিন করে দেয়।
সুতরাং-
- নিয়মিত রোদ
- স্বাস্থ্যকর খাবার
- ব্যায়াম
- পর্যাপ্ত ঘুম
- স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ
– এগুলোই ডায়াবেটিস থেকে সুরক্ষার মূল চাবিকাঠি।
ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করুন।
FAQ Section – ডায়াবেটিসে ভিটামিনের অভাব হয়?
১. ডায়াবেটিস কি সত্যিই কোনো ভিটামিনের অভাবে হয়?
উত্তর:
না, ডায়াবেটিস কোন ভিটামিনের অভাবে হয় না।
ডায়াবেটিস মূলত ইনসুলিন হরমোনের সমস্যা, জেনেটিক্স, অতিরিক্ত ওজন, খাদ্যাভ্যাস ও লাইফস্টাইলের কারণে হয়। তবে কিছু ভিটামিনের ঘাটতি সুগার নিয়ন্ত্রণে সমস্যা বাড়াতে পারে।
২. কোন ভিটামিনের ঘাটতি ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়?
উত্তর:
নিচের ভিটামিনগুলো কমে গেলে ইনসুলিন সেনসিটিভিটি কমে এবং সুগার নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়—
- ভিটামিন D
- B12
- B1 (থায়ামিন)
- ভিটামিন C
- ম্যাগনেসিয়াম
এগুলো ডায়াবেটিস “সৃষ্টি” না করলেও জটিলতা বাড়াতে পারে।
৩. ভিটামিন D কি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর:
হ্যাঁ, ভিটামিন D কমে গেলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বেড়ে যায়। এটি সুগার নিয়ন্ত্রণে সমস্যা সৃষ্টি করে। তাই রোদ, মাছ, ডিম এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া উচিত।
৪. B12 ঘাটতি কি ডায়াবেটিস রোগীর শরীরে সমস্যা তৈরি করে?।ডায়াবেটিস কোন ভিটামিন অভাব
উত্তর:
অবশ্যই। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন মেটফর্মিন খায় তারা B12 ঘাটতিতে ভোগে। এতে-
- হাত–পা অবশ
- নার্ভের ব্যথা
- দুর্বলতা
- নিউরোপ্যাথির ঝুঁকি
বাড়তে পারে।
৫. ডায়াবেটিক রোগীরা কোন ভিটামিনগুলো নিয়মিত নিতে পারেন?
উত্তর:
চিকিৎসকের পরামর্শে নিচের ভিটামিনগুলো গ্রহণ করা যায়—
- ভিটামিন D
- ভিটামিন B12
- ভিটামিন C
- B-Complex
- ম্যাগনেসিয়াম
- ক্রোমিয়াম
তবে নিজে থেকে সাপ্লিমেন্ট শুরু করা ঠিক নয়।
৬. ভিটামিন C কি রক্তে সুগার কমায়?
উত্তর:
ভিটামিন C সুগার “কমায় না”, তবে শরীরের প্রদাহ কমায়, ইমিউনিটি বাড়ায় এবং ডায়াবেটিসজনিত ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।
৭. ম্যাগনেসিয়াম কি ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে?
উত্তর:
হ্যাঁ, ম্যাগনেসিয়াম ইনসুলিন কার্যকারিতা বাড়ায়। এর ঘাটতি হলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়, ফলে রক্তে সুগার বেড়ে যায়।
৮. ডায়াবেটিস প্রতিরোধে শুধু ভিটামিন খেলেই কি হবে?
উত্তর:
না। নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত ঘুমই আসল সমাধান। ভিটামিন কেবল সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
৯. ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট কি ডায়াবেটিস সারাতে পারে?
উত্তর:
না। কোনো ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট ডায়াবেটিস সারাতে পারে না।
এটি শুধু নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
১০. ডায়াবেটিস হলে কি রক্তের ভিটামিন পরীক্ষা করা উচিত?
উত্তর:
হ্যাঁ, বিশেষত-
- ভিটামিন D
- ভিটামিন B12
- ম্যাগনেসিয়াম
এগুলোর নিয়মিত পরীক্ষা সুগার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে ও জটিলতা কমায়।
১১. কোন খাবারগুলো ভিটামিন সমৃদ্ধ এবং ডায়াবেটিস রোগীর জন্য উপকারী?। ডায়াবেটিসে ভিটামিনের অভাব
উত্তর:
- মাছ, ডিম, দুধ
- ব্রাউন রাইস
- বাদাম–কাজু
- পালংশাক
- কমলা, লেবু, পেয়ারা
- দই
এসব খাবার ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ এবং রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
১২. ডায়াবেটিস রোগী দিনে কোন সময়ে ভিটামিন নেবে?
উত্তর:
সাপ্লিমেন্টের সময় ভিটামিনের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হয়।
উদাহরণ-
- ভিটামিন D → খাবারের সাথে
- B12 → যেকোনো সময়
- ম্যাগনেসিয়াম → রাতের দিকে
তবে ডাক্তার যা বলবেন সে সময়ই নিতে হবে।
১৩. ভিটামিনের অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট কি ক্ষতিকর?
উত্তর:
হ্যাঁ। ভিটামিন D, B6, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি অতিরিক্ত খেলে—
- কিডনি ক্ষতি
- বমি
- মাথা ব্যথা
- নার্ভ ড্যামেজ
হতে পারে।
তাই স্বেচ্ছায় বেশি ডোজ নেওয়া বিপজ্জনক।
১৪. ভিটামিনের অভাবে ডায়াবেটিসের জটিলতা কেন বাড়ে?
উত্তর:
কারণ ভিটামিনগুলো—
- নার্ভ রক্ষা করে
- ইনসুলিন কাজ করতে সাহায্য করে
- শরীরের প্রদাহ কমায়
যখন এসব ভিটামিন কম থাকে, তখন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়।
১৫. ডায়াবেটিস রোগী কি শুধু খাবার থেকে ভিটামিন পেতে পারে?
উত্তর:
হ্যাঁ, বেশিরভাগ ভিটামিন খাবার থেকেই পাওয়া যায়।
সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার প্রয়োজন হয় যখন-
- ঘাটতি খুব বেশি
- খাদ্যাভ্যাস ঠিক নয়
- ডাক্তার পরামর্শ দেন
১৬. শিশুদের ডায়াবেটিস কোন ভিটামিনের অভাবে হয়?
উত্তর:
শিশুদের ডায়াবেটিসও কোনো ভিটামিন ঘাটতির কারণে হয় না।
শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত Type-1 Diabetes হয়, যা ইমিউন সিস্টেমের কারণে হয়।
১৭. গর্ভাবস্থায় ভিটামিন কমলে কি ডায়াবেটিস হয়?
উত্তর:
না, গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (Gestational Diabetes) ভিটামিন কমে হয় না।
এটি হরমোন পরিবর্তনের কারণে ইনসুলিন কম কাজ করা থেকে হয়।
১৮. ভিটামিন কি রক্তে সুগার কমাতে সাহায্য করে?
উত্তর:
সরাসরি কমায় না।
তবে ভিটামিন D, ম্যাগনেসিয়াম, ক্রোমিয়াম ইনসুলিনকে ভালোভাবে কাজ করতে সহায়তা করে।
১৯. ডায়াবেটিস হলে কি ভিটামিন D টেস্ট বাধ্যতামূলক
উত্তর:
অনেক ডাক্তার এটি নিয়মিত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন কারণ ডায়াবেটিস রোগীদের বেশিরভাগের ভিটামিন D কম থাকে।
২০. খাদ্য থেকে ভিটামিন নেওয়া কি সাপ্লিমেন্টের চেয়ে ভালো?। ডায়াবেটিসে ভিটামিনের অভাব
উত্তর:
হ্যাঁ। প্রাকৃতিক খাদ্য থেকে পাওয়া ভিটামিন শরীর সহজে গ্রহণ করে এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে না।
Outbount Links: https://www.who.int/
intenal links:
আরও পড়ুন

- আপনার হার্টে ব্লক আছে কি না?
- বিস্তারিতঃ এখানে অথবা ছবিতে ক্লিক কর।
- আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে– এখানে ক্লিক কর
সম্পাদক
মোঃ নাইয়ার আযম,সহকারী অধ্যাপক(পদার্থবিজ্ঞান),মজিদা খাতুন মহিলা কলেজ, রংপুর।

নাইয়ার আযম একজন নিবেদিতপ্রাণ পদার্থবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক। তিনি মজিদা খাতুন মহিলা কলেজ,রংপুর এ কর্মরত আছেন এবং Studentbarta.com-ওয়েব সাইডের সম্পাদক। তিনি শিক্ষা ও অনলাইন শিক্ষার প্রতি গভীরভাবে অনুরাগী এবং নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করার মতো চিন্তাশীল লেখা প্রকাশ করেন। তার শিক্ষা জীবন শুরু হয় ক্যান্ট পাবলিক স্কুল থেকে এবং পরবর্তীতে তিনি কারমাইকেল কলেজ, রংপুর-এ উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। বর্তমানে রংপুর সিটি-তে বসবাসরত নাইয়ার আযম সবসময় শিক্ষা, অনলাইন লার্নিং এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে আগ্রহী। পদার্থবিজ্ঞানের জ্ঞানকে সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন এবং আধুনিক শিক্ষার সুযোগ প্রসারে তিনি বিশেষভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।