বাংলাদেশের তরুণ রাজনীতি-২০২৬ সালে বাংলাদেশের তরুণ রাজনীতি দেশের রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
জনসংখ্যার বড় একটি অংশ তরুণ হওয়ায় তাদের ভোট, মতামত ও সামাজিক সক্রিয়তা এখন জাতীয় সিদ্ধান্তে
গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সবখানেই
তরুণদের উপস্থিতি দৃশ্যমান। ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল–এর মতো
ছাত্রসংগঠনগুলোর মাধ্যমে তরুণরা রাজনীতিতে যুক্ত হলেও এখন ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন, ডিজিটাল ক্যাম্পেইন ও
নীতি–কেন্দ্রিক আলোচনায় তাদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। ফলে বাংলাদেশের তরুণ রাজনীতি কেবল দলীয় কাঠামোর
মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি পরিবর্তন, জবাবদিহিতা ও নতুন নেতৃত্বের সম্ভাবনার এক শক্তিশালী ভিত্তি হয়ে উঠছে।
১️। তরুণ ভোটারদের সংখ্যা ও প্রভাব (বাংলাদেশের তরুণ রাজনীতি)
বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে তরুণ ভোটাররা এখন একটি নির্ধারক শক্তি। প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক
নতুন ভোটার তালিকাভুক্ত হওয়ায় ভোটার কাঠামো দ্রুত তরুণমুখী হচ্ছে। এই নতুন প্রজন্ম শুধু সংখ্যা বাড়াচ্ছে না,
বরং তারা রাজনৈতিক আলোচনার ধরনও বদলে দিচ্ছে-উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বচ্ছতার মতো বিষয়কে
সামনে নিয়ে আসছে।
প্রথমবার ভোটদাতা তরুণদের মধ্যে রাজনৈতিক আগ্রহ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি দৃশ্যমান। তারা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন সংবাদ ও টকশোর মাধ্যমে রাজনৈতিক তথ্য সংগ্রহ করছে এবং নিজস্ব
মতামত গড়ে তুলছে। অনেকেই সরাসরি প্রচারণা, বিতর্ক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছে, যা নির্বাচনী
পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলছে।
নির্বাচনে তরুণদের অংশগ্রহণ তাই শুধু ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি নীতি নির্ধারণ, দলীয় প্রার্থী
নির্বাচন এবং রাজনৈতিক বার্তার দিকনির্দেশনাতেও প্রভাব ফেলছে। যে দল তরুণদের আস্থা অর্জন করতে পারবে,
তারাই ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে এগিয়ে থাকবে-এমন বাস্তবতা এখন স্পষ্ট।
২️। ছাত্ররাজনীতি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (বাংলাদেশের তরুণ রাজনীতি)
বাংলাদেশের তরুণ রাজনীতি বুঝতে হলে ছাত্ররাজনীতির ইতিহাস জানা জরুরি। ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধিকার
আন্দোলন-প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সংগ্রামে শিক্ষার্থীরা সামনের সারিতে ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাস
শুধু পাঠদান নয়, বরং রাজনৈতিক চেতনা ও সামাজিক পরিবর্তনের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে। এই ঐতিহ্য
আজও বাংলাদেশের তরুণ রাজনীতির ভিত্তিকে শক্ত করে রেখেছে।
ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বিভিন্ন জাতীয় আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার দাবি করে এবং ক্ষমতাসীন
রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে ক্যাম্পাস ও জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। অন্যদিকে
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বিরোধী রাজনৈতিক ধারার প্রতিনিধিত্ব করে এবং আন্দোলন–সংগ্রামের মাধ্যমে
নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের তরুণ রাজনীতি কেবল ঐতিহ্যগত দলীয় প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং
শিক্ষার মান, কর্মসংস্থান, ক্যাম্পাস নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতো ইস্যু এখন সামনে চলে এসেছে। ফলে
ছাত্ররাজনীতি আজ শুধু অতীতের গৌরব নয়-এটি ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির পরীক্ষাগার, যেখানে তরুণদের সিদ্ধান্তই
আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতির দিক নির্ধারণ করতে পারে।
৩️। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল অ্যাক্টিভিজম
ডিজিটাল যুগে বাংলাদেশের তরুণ রাজনীতি নতুন এক মাত্রা পেয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে।
ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটক এখন শুধু বিনোদনের প্ল্যাটফর্ম নয়-এগুলো রাজনৈতিক মতামত গঠন, প্রচারণা
চালানো এবং জনমত তৈরি করার শক্তিশালী মাধ্যম। তরুণরা লাইভ আলোচনা, শর্ট ভিডিও, বিশ্লেষণধর্মী কনটেন্ট
ও রিঅ্যাকশন ভিডিওর মাধ্যমে রাজনৈতিক ইস্যু সহজ ভাষায় তুলে ধরছে, যা অল্প সময়েই হাজারো মানুষের কাছে
পৌঁছে যাচ্ছে।
অনলাইন ক্যাম্পেইন ও হ্যাশট্যাগ আন্দোলনও বাংলাদেশের তরুণ রাজনীতিকে গতিশীল করেছে। নির্দিষ্ট কোনো
ইস্যুতে একযোগে পোস্ট, ট্রেন্ডিং হ্যাশট্যাগ বা ডিজিটাল পিটিশন মুহূর্তের মধ্যে জাতীয় আলোচনায় পরিণত হচ্ছে।
অনেক সময় অনলাইন আন্দোলনের চাপ অফলাইন কর্মসূচি ও নীতিগত আলোচনাকেও প্রভাবিত করছে।
তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাইবার আইন ইস্যু তরুণদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অনলাইন
বক্তব্যের সীমা কোথায়, সমালোচনা আর আইনভঙ্গের পার্থক্য কী-এসব প্রশ্ন এখন আলোচনার কেন্দ্রে। ফলে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শুধু মত প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম নয়; এটি এখন ক্ষমতা, দায়বদ্ধতা ও সচেতন নাগরিকত্বের
নতুন পরীক্ষাক্ষেত্র, যেখানে তরুণরাই সবচেয়ে সক্রিয় ও প্রভাবশালী শক্তি।
৪️। তরুণ নেতৃত্বের উত্থান (বাংলাদেশের তরুণ রাজনীতি)
বাংলাদেশের তরুণ রাজনীতি আজ নতুন নেতৃত্বের সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল মঞ্চ হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক দলগুলো
ক্রমেই তরুণ প্রার্থীকে মনোনয়ন দিচ্ছে, যা শুধু নতুন শক্তি নিয়ে আসছে না, বরং তরুণদের ভাবনা, উদ্ভাবনী
কৌশল ও পরিবর্তনমুখী মনোভাবকেও রাজনৈতিক অঙ্গনে তুলে ধরছে।
স্থানীয় সরকারে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণও নজর কেড়েছে। পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ এবং উপজেলা পর্যায়ে
নির্বাচিত তরুণ নেতারা গণমুখী কর্মসূচি, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং সমাজসেবামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে সাড়া ফেলছেন।
এই কার্যকলাপ তরুণ ভোটারদের আস্থা বাড়াচ্ছে এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন উদ্দীপনা যোগ করছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, বাংলাদেশের তরুণ রাজনীতি ভবিষ্যতের জাতীয় নেতৃত্বের একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করছে।
যেসব তরুণ আজ ক্যাম্পাস, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও স্থানীয় প্রশাসনে নেতৃত্ব দিচ্ছে, তারাই আগামী দিনে দেশের
নীতি নির্ধারণ, রাজনৈতিক সংস্কার এবং দেশের উন্নয়নের ধারাকে নতুন দিক দেখাতে সক্ষম হবে। তরুণদের এই
অংশগ্রহণই বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের নতুন শক্তি হিসেবে পরিচিত।
৫️। বেকারত্ব, শিক্ষা ও রাজনৈতিক সচেতনতা
বাংলাদেশের তরুণ রাজনীতি আজ শুধু নির্বাচনী প্রক্রিয়া বা দলীয় কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি শিক্ষিত
বেকারদের চ্যালেঞ্জ এবং সামাজিক সচেতনতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। উচ্চশিক্ষা লাভের পরও কর্মসংস্থানের
অভাব অনেক তরুণকে হতাশ করেছে, যা তাদের রাজনৈতিক উদ্বেগ এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়িয়েছে।
কর্মসংস্থান ইস্যুতে তরুণরা সরাসরি রাজনৈতিক প্রভাব তৈরি করছে। বিভিন্ন আন্দোলন, অনলাইন ক্যাম্পেইন এবং
স্থানীয় কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা চাকরি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সমবায় উদ্যোগের দাবিতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ
করছে। এটি কেবল অভিযোগ নয়; বরং তরুণরা তাদের প্রয়োজনীয়তা এবং সমাধানের প্রস্তাবও প্রণয়ন করছে।
ফলে, বাংলাদেশের তরুণ রাজনীতি এখন উন্নয়নভিত্তিক হয়ে উঠেছে। শিক্ষা, চাকরি এবং সুযোগ–সুবিধার সমতা
নিশ্চিত করতে তরুণরা নিজস্ব কণ্ঠ ও উদ্যোগ ব্যবহার করছে, যা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিবেশকে নতুন দিক ও
গতিশীলতা দিচ্ছে।
৬️। তরুণদের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ (বাংলাদেশের তরুণ রাজনীতি)
বাংলাদেশের তরুণ রাজনীতি আজ উজ্জীবিত হলেও একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল
এবং রাজনৈতিক ফ্র্যাকশনালিজম তরুণ নেতাদের সৃষ্টিশীলতা ও নীতিনির্ধারণের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে।
কখনও কখনও দলীয় পদ ও ক্ষমতার লড়াই নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে।
ক্যাম্পাস রাজনীতি ও সহিংসতা এক বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে সংঘর্ষ, রাজনৈতিক
বিক্ষোভ বা দলীয় বিরোধ প্রায়শই শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করে, যা তরুণদের সক্রিয় এবং ইতিবাচক রাজনৈতিক
অংশগ্রহণকে সীমিত করে।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন। সাইবার আইন, সামাজিক নীতি এবং চাপের কারণে অনেক তরুণ
তাদের রাজনৈতিক মতামত প্রকাশে সচেতনতা দেখাচ্ছে। তবু, এই চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যেও তরুণরা নতুন কৌশল,
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং নীতি–ভিত্তিক আন্দোলনের মাধ্যমে নিজের কণ্ঠ শক্তিশালী করছে। ফলে বাংলাদেশের
তরুণ রাজনীতি শুধু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি নয়; বরং এই বাধাগুলো পার করে দেশকে নতুন রাজনৈতিক গতিশীলতা
দিতে প্রস্তুত।
৭️। ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা (বাংলাদেশের তরুণ রাজনীতি)
বাংলাদেশের তরুণ রাজনীতি আগামী বছরগুলিতে দেশের রাজনৈতিক ধারা পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে
উঠতে পারে। তরুণরা শুধু ভোট দিতে নয়, নীতি নির্ধারণ, জনমত গঠন এবং সামাজিক ইস্যুতে নেতৃত্ব দেওয়াতেও
সক্রিয় হচ্ছে। এ কারণে নতুন রাজনৈতিক আন্দোলন এবং উদ্ভাবনী কৌশল তৈরি করার সম্ভাবনা বড়।
দলভিত্তিক রাজনীতি যেখানে দীর্ঘদিন রাজনীতির মূল চালিকা শক্তি ছিল, সেখানে তরুণরা ক্রমেই ইস্যুভিত্তিক
রাজনীতিকে সমর্থন করছে। শিক্ষার মান, কর্মসংস্থান, সুশাসন এবং ডিজিটাল স্বাধীনতার মতো বিষয় তরুণ
প্রজন্মকে একত্রিত করছে, যা দলীয় সীমারেখা অতিক্রম করে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।
২০২৬–পরবর্তী সময়ে এই তরুণ নেতৃত্ব দেশকে নতুন গতিশীলতা দিতে পারে। তারা পারস্পরিক সমঝোতা, স্বচ্ছতা
এবং উন্নয়নভিত্তিক নীতিকে শক্তিশালী করে রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উদ্ভাবনী করতে
সক্ষম। তাই বাংলাদেশের তরুণ রাজনীতি শুধু বর্তমানের নয়, ভবিষ্যতের রাজনীতির নতুন দিক নির্দেশ করতে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পাঠকের প্রশ্ন-উত্তর পর্ব (বাংলাদেশের তরুণ রাজনীতি)
| প্রশ্ন (FAQ) | সংক্ষিপ্ত উত্তর / হাইলাইট |
|---|---|
| ১. বাংলাদেশে কত শতাংশ ভোটার তরুণ? | প্রায় ৫০%–৬০% ভোটারই ১৮–৩৫ বছরের মধ্যে। |
| ২. তরুণ ভোটাররা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কতটা সক্রিয়? | নির্বাচনী এলাকার তরুণ ভোটাররা প্রায় ৪০–৫০% ভোটে অংশ নিচ্ছে। |
| ৩. ছাত্ররাজনীতি কীভাবে তরুণ রাজনীতিকে প্রভাবিত করছে? | বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাস তরুণদের রাজনৈতিক চেতনা গঠনে মূল ভূমিকা রাখছে। |
| ৪. বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভূমিকা কী? | ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ধারার শিক্ষার্থী সংগঠন হিসেবে নেতৃত্ব, আন্দোলন ও ক্যাম্পাস রাজনীতিতে সক্রিয়। |
| ৫. বিএনপি-ছাত্রদলের অবদান কী? | বিরোধী রাজনৈতিক ধারা তুলে ধরে আন্দোলন ও গণমাধ্যমে তরুণদের কণ্ঠ শক্তিশালী করে। |
| ৬. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণরা কীভাবে রাজনীতি করছে? | ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মাধ্যমে প্রচারণা, হ্যাশট্যাগ আন্দোলন এবং মতপ্রকাশ। |
| ৭. ডিজিটাল অ্যাক্টিভিজম কি কি সুবিধা নিয়ে আসে? | দ্রুত জনমত তৈরি, বড় সংখ্যক মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া। |
| ৮. তরুণদের কর্মসংস্থান ইস্যু কীভাবে রাজনীতিকে প্রভাবিত করছে? | বেকারত্ব ও চাকরির অভাব নিয়ে আন্দোলন ও নীতি নির্ধারণে সক্রিয় অংশগ্রহণ। |
| ৯. তরুণ নেতৃত্বের উদাহরণ কি আছে? | স্থানীয় সরকার ও ছাত্রসংগঠনে তরুণরা জনপ্রিয় কার্যক্রম চালাচ্ছে। |
| ১০. তরুণরা নতুন রাজনৈতিক ধারা তৈরি করতে পারবে কি? | ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্ভাবনা প্রবল। |
| ১১. তরুণ ভোটারদের রাজনৈতিক সচেতনতা কতটা? | সমীক্ষা অনুযায়ী তরুণরা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত ইস্যুতে বেশি সচেতন। |
| ১২. ক্যাম্পাস রাজনীতি কি এখনও প্রভাবশালী? | হ্যাঁ, শিক্ষার্থী আন্দোলন ও সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। |
| ১৩. মতপ্রকাশে তরুণদের চ্যালেঞ্জ কী? | সাইবার আইন, অনলাইন নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক চাপ। |
| ১৪. তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ কেমন? | আন্দোলন, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ এবং অনলাইন ক্যাম্পেইন–এ সক্রিয়। |
| ১৫. তরুণ ভোটারদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু কী? | শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সুশাসন এবং ডিজিটাল স্বাধীনতা। |
| ১৬. স্থানীয় সরকারে তরুণদের অংশগ্রহণ কেমন? | ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ে তরুণ নেতা সক্রিয়। |
বাংলাদেশের তরুণ রাজনীতি
| ১৭. তরুণরা কোন সামাজিক আন্দোলনে বেশি সক্রিয়? | অর্থনৈতিক সমস্যা, শিক্ষার মান, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং মানবাধিকার। |
| ১৮. দলভিত্তিক বনাম ইস্যুভিত্তিক রাজনীতি | তরুণরা ক্রমেই ইস্যুভিত্তিক রাজনীতির দিকে ঝুঁকছে। |
| ১৯. ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম রাজনীতিতে কতোটা গুরুত্বপূর্ণ? | জনমত তৈরি ও প্রচারণায় এখন সবচেয়ে প্রভাবশালী মাধ্যম। |
| ২০. ভবিষ্যতে তরুণদের ভূমিকা কেমন হবে? | জাতীয় নেতৃত্ব, নীতি নির্ধারণ ও রাজনৈতিক সংস্কারে প্রভাবশালী। |
টেগঃ বাংলাদেশের তরুণ রাজনীতি, তরুণ ভোটার, ছাত্ররাজনীতি, ক্যাম্পাস আন্দোলন, ডিজিটাল অ্যাক্টিভিজম, তরুণ নেতৃত্ব, স্থানীয় সরকারে যুব অংশগ্রহণ, উন্নয়নভিত্তিক রাজনীতি, ভোটার সচেতনতা, যুবরাজনীতি বিশ্লেষণ।
উপসংহার
বাংলাদেশের তরুণ রাজনীতি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে।
ভোটার থেকে নেতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে স্থানীয় সরকার-তরুণরা প্রতিটি স্তরে সক্রিয় ভূমিকা
রাখছে। তাদের অংশগ্রহণ কেবল নির্বাচনী ফলাফলের উপর প্রভাব ফেলছে না, বরং নতুন নীতি, উন্নয়নভিত্তিক
দাবী এবং পরিবর্তনমুখী রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভিত্তি তৈরি করছে।
যেখানে চ্যালেঞ্জ আছে-দলীয় কোন্দল, ক্যাম্পাস সহিংসতা ও মতপ্রকাশের সীমাবদ্ধতা-সেখানে তরুণরা উদ্ভাবনী
কৌশল, ডিজিটাল আন্দোলন এবং সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমে এগিয়ে আসছে। তাই বাংলাদেশের তরুণ
রাজনীতি কেবল বর্তমানের নয়, ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিবর্তনের নতুন শক্তি হিসেবে স্বীকৃত।
সম্পাদকঃ
মোঃ নাইয়ার আযম,সহকারী অধ্যাপক(পদার্থবিজ্ঞান),মজিদা খাতুন মহিলা কলেজ, রংপুর।

নাইয়ার আযম একজন নিবেদিতপ্রাণ পদার্থবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক। তিনি মজিদা খাতুন মহিলা কলেজ,রংপুর এ কর্মরত আছেন এবং Studentbarta.com-ওয়েব সাইডের সম্পাদক। তিনি শিক্ষা ও অনলাইন শিক্ষার প্রতি গভীরভাবে অনুরাগী এবং নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করার মতো চিন্তাশীল লেখা প্রকাশ করেন। তার শিক্ষা জীবন শুরু হয় ক্যান্ট পাবলিক স্কুল থেকে এবং পরবর্তীতে তিনি কারমাইকেল কলেজ, রংপুর-এ উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। বর্তমানে রংপুর সিটি-তে বসবাসরত নাইয়ার আযম সবসময় শিক্ষা, অনলাইন লার্নিং এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে আগ্রহী। পদার্থবিজ্ঞানের জ্ঞানকে সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন এবং আধুনিক শিক্ষার সুযোগ প্রসারে তিনি বিশেষভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।






