ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইড- বর্তমান সময়ে টাকা উপার্জনের চেয়ে টাকা সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা আরও বেশি
গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক মানুষ ভালো আয় করেও মাসের শেষে হাতে কিছুই রাখতে পারে না। আবার অল্প
আয়ের মানুষ সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে আর্থিকভাবে স্থিতিশীল জীবন গড়ে তোলে। এই পার্থক্যের মূল কারণহলো
ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স সম্পর্কে সচেতনতা।এই আর্টিকেলে আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইড নিয়ে
আলোচনা করবো, যেখানে সহজ ভাষায়শেখানো হবে-কীভাবে আয়, ব্যয়, সঞ্চয় ও বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণ করে একটি
নিরাপদ আর্থিক ভবিষ্যৎ তৈরি করা যায়।
ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইড কী এবং কেন জরুরি
ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইড বলতে এমন একটি সুসংগঠিত আর্থিক পথনির্দেশনাকে বোঝায়, যেখানে একজন
মানুষের আয় কীভাবে উপার্জন, ব্যয় কীভাবে নিয়ন্ত্রণ, সঞ্চয় কীভাবে গড়ে তোলা, বিনিয়োগ কোথায় ও কতটা ঝুঁকি
নিয়ে করা উচিত এবং ঋণ কীভাবে দায়িত্বশীলভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হবে-এই সব বিষয় একসাথে পরিষ্কারভাবে
ব্যাখ্যা করা থাকে। এটি কেবল দ্রুত ধনী হওয়ার কৌশল শেখায় না; বরং দৈনন্দিন জীবনে টাকার ওপর সচেতন
নিয়ন্ত্রণ তৈরি করে, অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাতে সাহায্য করে এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা মোকাবিলার জন্য
মানসিক ও আর্থিক প্রস্তুতি গড়ে তোলে। একটি ভালো ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইড মানুষকে আর্থিক সিদ্ধান্তে
আত্মবিশ্বাসী করে তোলে, ঋণের চাপ থেকে দূরে রাখে এবং ধীরে ধীরে একটি স্থিতিশীল, নিরাপদ ও চাপমুক্ত আর্থিক
জীবনযাপনের বাস্তব ভিত্তি তৈরি করে।
আজকের সময়ে-
- মূল্যস্ফীতি বাড়ছে
- চাকরি অনিশ্চিত
- চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে
এই পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স সম্পর্কে জ্ঞান না থাকলে আর্থিক সংকট অনিবার্য হয়ে ওঠে।

- ইনকিলাব মঞ্চের শরীফ ওসমান বিন হাদি: শৈশব থেকে আন্দোলনের নেতৃত্বে ওঠার জীবন কাহিনী
- বিস্তারিতঃ এখানে অথবা ছবিতে ক্লিক কর
ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইড অনুযায়ী আয় ব্যবস্থাপনার কৌশল
আয় হলো ব্যক্তিগত ফাইন্যান্সের মূল ভিত্তি, কারণ আয় ছাড়া সঞ্চয়, বিনিয়োগ বা আর্থিক পরিকল্পনা কিছুই সম্ভব
নয়। তবে বাস্তবতা হলো-শুধু বেশি আয় থাকলেই আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। অনেক মানুষ উচ্চ আয়
করেও বাজেটের অভাব, অপ্রয়োজনীয় খরচ ও ভুল আর্থিক সিদ্ধান্তের কারণে সব সময় অর্থকষ্টে ভোগে। প্রকৃত
আর্থিক নিরাপত্তা আসে তখনই, যখন আয়কে সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা হয়-অর্থাৎ আয়ের একটি অংশ সঞ্চয়
করা হয়, ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ করা হয় এবং খরচ রাখা হয় নিয়ন্ত্রিত ও পরিকল্পিত। তাই আয়ের পরিমাণের
চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আয় ব্যবহারের দক্ষতা, সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্যকে সামনে
রেখে অর্থ পরিচালনা করা, যা একজন মানুষকে সত্যিকারের স্থিতিশীল ও নিরাপদ আর্থিক জীবনের দিকে নিয়ে যায়।
আয় বাড়ানোর বাস্তব উপায়
- দক্ষতা উন্নয়ন (Freelancing, Online Skills)
- একাধিক আয়ের উৎস তৈরি
- অপ্রয়োজনীয় সময় নষ্ট না করে প্রোডাক্টিভ কাজে যুক্ত হওয়া
আয় অনুযায়ী জীবনযাপন
ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইড অনুসারে জীবনযাপন হওয়া উচিত আয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আয়ের চেয়ে বেশি খরচই অধিকাংশ আর্থিক সমস্যার মূল কারণ।

- বাংলাদেশে সঞ্চয় করার সেরা উপায় ২০২৬ | কম আয়েও বড় সঞ্চয় গড়ুন
- বিস্তারিতঃ এখানে অথবা ছবিতে ক্লিক কর
ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইডে বাজেট পরিকল্পনার গুরুত্ব
বাজেট হলো টাকার মানচিত্র, যা আয় কোথা থেকে আসছে এবং কোন পথে খরচ হচ্ছে-তা স্পষ্টভাবে দেখায়।
বাজেট না থাকলে টাকা দিকহীনভাবে খরচ হয় এবং মাসের শেষে কেন কিছুই থাকে না তা বোঝা যায় না। একটি
সঠিক বাজেট অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে, খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সঞ্চয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার
দিতে সাহায্য করে। তাই বাজেট শুধু হিসাবের খাতা নয়; বরং আর্থিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার দিকে এগিয়ে
যাওয়ার একটি কার্যকর দিকনির্দেশনা।
মাসিক বাজেট কিভাবে করবেন
- মোট আয় লিখুন
- নির্দিষ্ট খরচ আলাদা করুন
- সঞ্চয়কে অগ্রাধিকার দিন
জনপ্রিয় নিয়ম: 50/30/20 Rule
- ৫০% প্রয়োজনীয় খরচ
- ৩০% ব্যক্তিগত চাহিদা
- ২০% সঞ্চয় ও বিনিয়োগ
এই নিয়মটি প্রায় সব ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইডে কার্যকর হিসেবে ধরা হয়।

- সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিও ও মিমস ২০২৫: নতুন ট্রেন্ড, নতুন মুখ, নতুন উন্মাদনা
- বিস্তারিতঃ এখানে অথবা ছবিতে ক্লিক কর
ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইড অনুযায়ী সঞ্চয়ের সেরা অভ্যাস
সঞ্চয় হলো ভবিষ্যতের নিরাপত্তা বীমা, যা অপ্রত্যাশিত খরচ বা জরুরি পরিস্থিতিতে আর্থিক সহায়তা দেয়। নিয়মিত
সঞ্চয় করলে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সহজ হয়, মানসিক চাপ কমে এবং আর্থিক স্বাধীনতা অর্জনের পথ সুগম হয়।
এটি শুধুমাত্র টাকা জমানো নয়, বরং একটি সচেতন অভ্যাস যা দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ ও স্থিতিশীল জীবন নিশ্চিত করে।
কেন সঞ্চয় জরুরি
- হঠাৎ বিপদে সহায়তা
- মানসিক চাপ কমায়
- ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সহজ করে
কার্যকর সঞ্চয় কৌশল
- আয় পাওয়ার সাথে সাথে সঞ্চয় আলাদা করুন
- ছোট অঙ্ক হলেও নিয়মিত সঞ্চয় করুন
- সঞ্চয়কে খরচ মনে না করে অভ্যাসে পরিণত করুন
একটি ভালো ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইড সবসময় “Pay Yourself First” নীতিকে গুরুত্ব দেয়।

- ফিটনেস ও ক্রিকেট: পেশাদার খেলোয়াড়রা কীভাবে ফিট থাকেন। পাঠকের প্রশ্ন-উত্তর পর্ব
- বিস্তারিতঃ এখানে অথবা ছবিতে ক্লিক কর
ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইডে ঋণ ব্যবস্থাপনার বাস্তব দিক
সব ঋণ খারাপ নয়; কিছু ঋণ যেমন শিক্ষা বা ব্যবসায়িক ঋণ ভবিষ্যতের বিনিয়োগ হিসেবে উপকারী হতে পারে।
তবে নিয়ন্ত্রণহীন ঋণ ভয়ংকর, কারণ উচ্চ সুদ, অযথাযথ খরচ এবং সময়মতো পরিশোধ না করার ফলে আর্থিক
চাপ ও সমস্যার সৃষ্টি হয়। তাই ঋণ নেওয়ার সময় সতর্ক পরিকল্পনা এবং দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য।
খারাপ ঋণের উদাহরণ
- ক্রেডিট কার্ডের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার
- উচ্চ সুদের ভোক্তা ঋণ
ভালো ঋণের উদাহরণ
- শিক্ষা ঋণ
- ব্যবসায়িক ঋণ
ঋণ কমানোর কৌশল
- উচ্চ সুদের ঋণ আগে পরিশোধ
- নতুন ঋণ এড়িয়ে চলা
- মাসিক কিস্তি পরিকল্পনা
এই অংশটি প্রতিটি ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইডের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

- মাংস খাওয়া কি ক্যান্সার থেকে রক্ষা করে? নতুন গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য
- বিস্তারিতঃ এখানে অথবা পাশের ছবিতে ক্লিক কর
ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইড অনুযায়ী বিনিয়োগের বেসিক ধারণা
বিনিয়োগ ছাড়া শুধু সঞ্চয় করে বড় আর্থিক লক্ষ্য অর্জন করা সত্যিই কঠিন, কারণ সঞ্চিত টাকা সময়ের সাথে
মূল্যস্ফীতির কারণে তার ক্রয়ক্ষমতা হারায়। বিনিয়োগ সেই টাকাকে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে দেয়, আয় বাড়ায়
এবং দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ গঠনে সহায়তা করে। সঠিক পরিকল্পনা ও ঝুঁকি বুঝে করা বিনিয়োগই সঞ্চয়কে বাস্তব
অর্থনৈতিক সাফল্যে রূপান্তর করে।
বিনিয়োগ কেন দরকার
- মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়াই
- দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ বৃদ্ধি
নতুনদের জন্য নিরাপদ বিনিয়োগ
- সঞ্চয়পত্র
- ফিক্সড ডিপোজিট
- মিউচুয়াল ফান্ড (ঝুঁকি বুঝে)
ভালো ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইড কখনোই দ্রুত ধনী হওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয় না।

- Fat but Fit বনাম Underweight: নতুন গবেষণা বলছে BMI সবসময় Health-এর আসল চিত্র নয়
- বিস্তারিতঃ এখানে অথবা পাশের ছবিতে ক্লিক কর
ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইডে জরুরি তহবিল (Emergency Fund)
জরুরি তহবিল বলতে বোঝায় দৈনন্দিন খরচের প্রায় ৩-৬ মাসের সমপরিমাণ টাকা আলাদা করে সংরক্ষণ করা, যা
হঠাৎ বিপদে আর্থিক সুরক্ষা দেয়। চাকরি হারানো, চিকিৎসা ব্যয় বা জরুরি পারিবারিক পরিস্থিতিতে এই তহবিল
মানুষকে ঋণের ওপর নির্ভরশীল হওয়া থেকে রক্ষা করে। তাই জরুরি তহবিল ব্যক্তিগত ফাইন্যান্সের একটি অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্তম্ভ।
কেন জরুরি তহবিল প্রয়োজন
- চাকরি হারানো
- চিকিৎসা খরচ
- পারিবারিক জরুরি পরিস্থিতি
এই তহবিল না থাকলে মানুষ ঋণের ফাঁদে পড়ে যায়-যা ব্যক্তিগত ফাইন্যান্সকে ধ্বংস করে দেয়।

- Mobile Addicted Mother: যখন মা বেঁচে থেকেও অনুপস্থিত
- বিস্তারিতঃ এখানে অথবা পাশের ছবিতে ক্লিক কর
ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইড অনুযায়ী আর্থিক লক্ষ্য নির্ধারণ
লক্ষ্য ছাড়া টাকা শুধু খরচ হয়ে যায়, কিন্তু কোনো বাস্তব ফল তৈরি করে না। স্পষ্ট আর্থিক লক্ষ্য থাকলে টাকা
পরিকল্পিতভাবে সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা করা যায়, যা ভবিষ্যতের জন্য মূল্য সৃষ্টি করে। লক্ষ্য নির্ধারণ টাকাকে
দিকনির্দেশনা দেয় এবং আর্থিক সিদ্ধান্তকে অর্থবহ ও কার্যকর করে তোলে।
লক্ষ্য নির্ধারণের ধাপ
- স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্য (ভ্রমণ, গ্যাজেট)
- মধ্যমেয়াদী লক্ষ্য (বিয়ে, ব্যবসা)
- দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য (বাড়ি, অবসর)
প্রতিটি লক্ষ্যকে সময় ও টাকার অঙ্ক দিয়ে নির্দিষ্ট করাই একটি স্মার্ট ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইডের বৈশিষ্ট্য।

- তারকাদের গোপন জীবন: ক্যামেরার আড়ালের অজানা গল্প। পাঠকের প্রশ্ন-উত্তর পর্ব
- বিস্তারিতঃ এখানে অথবা পাশের ছবিতে ক্লিক কর
ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইড অনুসরণে সাধারণ ভুল
- বাজেট না করা
- সঞ্চয়কে অবহেলা করা
- বিনিয়োগ না বুঝে করা
- আয়ের তুলনায় জীবনযাপন বাড়ানো
এই ভুলগুলো এড়িয়ে চললেই আর্থিক স্থিতিশীলতা সম্ভব।
পাঠকের প্রশ্ন-উত্তর পর্ব (ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইড)
| পাঠকের প্রশ্ন | উত্তর |
| ১। ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইড কী? | ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইড হলো আয়, ব্যয়, সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও ঋণ ব্যবস্থাপনার পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা। |
| ২। ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইড কেন গুরুত্বপূর্ণ? | এটি টাকার ওপর নিয়ন্ত্রণ এনে আর্থিক চাপমুক্ত জীবনযাপনে সাহায্য করে। |
| ৩। কারা ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইড অনুসরণ করবে? | ছাত্র, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী-সবাই এই গাইড অনুসরণ করতে পারে। |
| ৪। কম আয় হলে কি ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইড কাজে আসে? | হ্যাঁ, কম আয়েও সঠিক পরিকল্পনা থাকলে আর্থিক স্থিতিশীলতা সম্ভব। |
| ৫। ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইডের প্রথম ধাপ কী? | আয় ও ব্যয়ের হিসাব করে একটি বাস্তবসম্মত বাজেট তৈরি করা। |
| ৬। বাজেট কেন ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ? | বাজেট খরচ নিয়ন্ত্রণ করে এবং সঞ্চয়কে অগ্রাধিকার দেয়। |
| ৭। মাসিক বাজেট কতদিন পরপর আপডেট করা উচিত? | প্রতি মাসে একবার বাজেট পর্যালোচনা করা ভালো। |
| ৮। ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইডে সঞ্চয়ের গুরুত্ব কী? | সঞ্চয় ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা থেকে আর্থিক সুরক্ষা দেয়। |
| ৯। আয়ের কত শতাংশ সঞ্চয় করা উচিত? | সাধারণভাবে আয়ের কমপক্ষে ২০% সঞ্চয় করা ভালো। |
| ১০। জরুরি তহবিল কী? | ৩-৬ মাসের খরচের সমপরিমাণ আলাদা করে রাখা টাকাই জরুরি তহবিল। |
পাঠকের প্রশ্ন-উত্তর পর্ব
| ১১। জরুরি তহবিল কেন দরকার? | হঠাৎ বিপদে ঋণ নেওয়া থেকে বাঁচাতে জরুরি তহবিল সহায়তা করে। |
| ১২। বিনিয়োগ কেন ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইডে জরুরি? | বিনিয়োগ টাকাকে বাড়াতে সাহায্য করে এবং মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা করে। |
| ১৩। নতুনদের জন্য নিরাপদ বিনিয়োগ কী? | সঞ্চয়পত্র, ফিক্সড ডিপোজিট ও কম ঝুঁকির ফান্ড। |
| ১৪। শুধু সঞ্চয় করলেই কি আর্থিক লক্ষ্য পূরণ হয়? | না, বড় লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ প্রয়োজন। |
| ১৫। সব ঋণ কি খারাপ? | না, শিক্ষা বা ব্যবসার মতো ঋণ উপকারী হতে পারে। |
| ১৬। খারাপ ঋণ বলতে কী বোঝায়? | উচ্চ সুদের ও অপ্রয়োজনীয় খরচের জন্য নেওয়া ঋণ। |
| ১৭। ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইড ঋণ কমাতে কীভাবে সাহায্য করে? | ঋণের অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও পরিকল্পিত পরিশোধ শেখায়। |
| ১৮। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার কি ক্ষতিকর? | নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ব্যবহার করলে ক্ষতিকর, নিয়ম মেনে হলে নয়। |
| ১৯। আর্থিক লক্ষ্য নির্ধারণ কেন জরুরি? | লক্ষ্য টাকা ব্যবহারে দিকনির্দেশনা দেয়। |
| ২০। স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য কী? | স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্য ১-২ বছরে, দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য ৫-১০ বছরে পূরণ হয়। |
ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইড
| ২১। ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইডে মূল্যস্ফীতির প্রভাব কী? | মূল্যস্ফীতি টাকার মূল্য কমায়, তাই বিনিয়োগ জরুরি। |
| ২২। আয় বাড়ানোর সহজ উপায় কী? | দক্ষতা উন্নয়ন ও অতিরিক্ত আয়ের উৎস তৈরি করা। |
| ২৩। অপ্রয়োজনীয় খরচ কীভাবে কমাবো? | বাজেট অনুসরণ ও খরচ ট্র্যাক করার মাধ্যমে। |
| ২৪। ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইড কি মানসিক চাপ কমায়? | হ্যাঁ, আর্থিক স্বচ্ছতা মানসিক চাপ কমায়। |
| ২৫। নিয়মিত ফাইন্যান্স রিভিউ কেন দরকার? | পরিকল্পনা ঠিক পথে আছে কিনা তা বোঝার জন্য। |
| ২৬। ছাত্রদের জন্য ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইড দরকার? | হ্যাঁ, অল্প বয়সেই অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক। |
| ২৭। পরিবার পরিচালনায় ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইড কীভাবে সাহায্য করে? | খরচ নিয়ন্ত্রণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সহজ করে। |
| ২৮। ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইড কি আর্থিক স্বাধীনতা দেয়? | দীর্ঘমেয়াদে অনুসরণ করলে আর্থিক স্বাধীনতা সম্ভব। |
| ২৯। ফাইন্যান্স গাইড অনুসরণে সবচেয়ে সাধারণ ভুল কী? | বাজেট না করা ও সঞ্চয় উপেক্ষা করা। |
| ৩০। কখন থেকে ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইড অনুসরণ শুরু করা উচিত? | আজ থেকেই-যত আগে শুরু, তত ভালো ফল। |
উপসংহার:
ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইড মানেই আর্থিক স্বাধীনতার পথ
টাকা নিয়ন্ত্রণ মানে কৃপণতা নয়; বরং সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়া। একটি ভালো ব্যক্তিগত ফাইন্যান্স গাইড আপনাকে শেখায়-
- কীভাবে আয়কে কাজে লাগাতে হয়
- কীভাবে ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে হয়
- কীভাবে আর্থিক চাপমুক্ত জীবন গড়া যায়
আজ থেকেই ছোট ছোট পদক্ষেপ নিন। কারণ ব্যক্তিগত ফাইন্যান্সে সাফল্য একদিনে আসে না, আসে ধারাবাহিক অভ্যাসে।
প্রতিবেদনটি তৈরী করেনঃ Mst. Kulsum Aktar Shimu.
সম্পাদক
মোঃ নাইয়ার আযম,সহকারী অধ্যাপক(পদার্থবিজ্ঞান),মজিদা খাতুন মহিলা কলেজ, রংপুর।

নাইয়ার আযম একজন নিবেদিতপ্রাণ পদার্থবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক। তিনি মজিদা খাতুন মহিলা কলেজ,রংপুর এ কর্মরত আছেন এবং Studentbarta.com-ওয়েব সাইডের সম্পাদক। তিনি শিক্ষা ও অনলাইন শিক্ষার প্রতি গভীরভাবে অনুরাগী এবং নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করার মতো চিন্তাশীল লেখা প্রকাশ করেন। তার শিক্ষা জীবন শুরু হয় ক্যান্ট পাবলিক স্কুল থেকে এবং পরবর্তীতে তিনি কারমাইকেল কলেজ, রংপুর-এ উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। বর্তমানে রংপুর সিটি-তে বসবাসরত নাইয়ার আযম সবসময় শিক্ষা, অনলাইন লার্নিং এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে আগ্রহী। পদার্থবিজ্ঞানের জ্ঞানকে সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন এবং আধুনিক শিক্ষার সুযোগ প্রসারে তিনি বিশেষভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।