নতুন পে কমিশন ২০২৫: সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন দ্বিগুণের ইঙ্গিত | New Pay Scale Bangladesh Update

বাংলাদেশে প্রায় এক দশক পর গঠিত হয়েছে নতুন পে কমিশন ২০২৫, যেখানে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন দ্বিগুণের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জানা গেছে, নবম পে স্কেলে বেতন কাঠামোয় আসছে বড় পরিবর্তন। পড়ুন বিস্তারিত বিশ্লেষণ।

প্রায় এক দশক পর গঠিত হলো নতুন পে কমিশন ২০২৫

বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আসছে বড় সুখবর। প্রায় ১০ বছর পর গঠিত হয়েছে নতুন পে কমিশন ২০২৫, যা নবম পে স্কেল ঘোষণা করবে বলে নিশ্চিত সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘ বিরতির পর গঠিত এই কমিশন নিয়ে কর্মজীবী সমাজে দেখা দিয়েছে নতুন আশার আলো।

এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ ব্যবধানের পর গঠিত কোনো পে কমিশন। এর আগে সর্বশেষ পে কমিশন গঠিত হয়েছিল ২০১৫ সালে, যার সুপারিশে ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেল ঘোষণা করা হয়।

বেতন কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

নতুন কমিশনের সদস্যরা জানিয়েছেন, এইবারের নবম পে স্কেল কেবল বেতন বাড়ানোর নয়, বরং গ্রেডভিত্তিক বৈষম্য কমিয়ে একটি আধুনিক ও বাস্তবভিত্তিক কাঠামো তৈরি করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমান কমিশনের এক সদস্য জানিয়েছেন, দেশের আর্থিক সক্ষমতা ও বাজারদরের পরিবর্তন — উভয় বিষয় মাথায় রেখেই নতুন স্কেলের প্রস্তাব তৈরি হচ্ছে।

ইতিহাসে সরকারি বেতন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা

বাংলাদেশের পে স্কেল ইতিহাসে দেখা যায়, ১৯৭৭ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত ৮টি পে স্কেল ঘোষণা হয়েছে। গড়ে প্রতি ৫.৫ বছর অন্তর একটি করে পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছে।
নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন তুলে ধরা হলো —

বছরসর্বোচ্চ বেতনসর্বনিম্ন বেতনবৃদ্ধির হার
19773,000 টাকা225 টাকা50% বৃদ্ধি
19856,000 টাকা500 টাকা122.2% বৃদ্ধি
199110,000 টাকা900 টাকা80% বৃদ্ধি
199715,000 টাকা1,500 টাকা66.6% বৃদ্ধি
200523,000 টাকা2,400 টাকা60% বৃদ্ধি
201578,000 টাকা8,250 টাকা101% বৃদ্ধি

২০২৫ সালের পে কমিশনের লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি

পে কমিশন–২০২৫-এর প্রধান লক্ষ্য শুধু বেতন বাড়ানো নয়, বরং “ন্যায্য অনুপাত ও বাস্তবভিত্তিক কাঠামো” নিশ্চিত করা।
কমিশনের এক সদস্য জানিয়েছেন, “আমরা চারটি ক্যাটাগরিতে প্রশ্ন দিয়েছিলাম মতামতের জন্য। সেগুলো বিশ্লেষণ করে ন্যায্য ও সক্ষমতাভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

বেতন দ্বিগুণের সম্ভাবনা: উদাহরণ হিসেবে হিসাব

কমিশনের এক সদস্যের ইঙ্গিত অনুযায়ী, মূল বেতন দ্বিগুণ হতে পারে। সে হিসেবে —

  • ১ম গ্রেডের বেতন হবে প্রায় ৳১,৫৬,০০০ টাকা,
  • ২০তম গ্রেডের বেতন দাঁড়াবে ৳১৬,৫০০ টাকা

যদি গ্রেড সংখ্যা কমানো হয়, তাহলে নিম্নতম বেতন আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা ও দাবি

১১–২০তম গ্রেড সরকারি চাকরিজীবী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন,

“২০১৫ সালের পর অন্তত দুটি কমিশন গঠিত হলে দুইবার বেতন বাড়তো। তাই এবার অন্তত ১৫০% বেতন বৃদ্ধি প্রয়োজন। সর্বনিম্ন বেতন হওয়া উচিত ৩২,০০০ এবং সর্বোচ্চ ১,২৮,০০০ টাকা।”

অর্থ উপদেষ্টার মন্তব্য।নতুন পে কমিশন ২০২৫

অর্থ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, নবম পে স্কেল ঘোষণা হবে ২০২৬ সালে। অর্থনৈতিক সক্ষমতা, বাজেট ঘাটতি, মুদ্রাস্ফীতি, এবং সরকারি ব্যয়ের ভারসাম্য—সব দিক বিবেচনা করে এটি কার্যকর করা হবে।

সম্ভাব্য সময়সূচি (সারাংশ): নতুন পে কমিশন ২০২৫

  • কমিশন গঠন: ২০২৫
  • প্রস্তাব জমা: ২০২৫ সালের শেষের দিকে
  • নবম পে স্কেল ঘোষণা: ২০২৬ সালের মাঝামাঝি
  • কার্যকর: ২০২৬ সালের জুলাই থেকে (সম্ভাব্য)

পরিবর্তনের পথে সরকারি বেতন কাঠামো

দীর্ঘ ১১ বছর পর এই নতুন পে কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আশার নতুন অধ্যায় খুলে দিয়েছে।
যদি সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়, তাহলে এটি হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বেতন বৃদ্ধি এবং দ্বিগুণ স্কেল পরিবর্তনের নজির।

নতুন পে কমিশন ২০২৫ নিয়ে সরকারী কর্মচারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। জানা গেছে, এই পে কমিশনের মাধ্যমে বেতন কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যপদস্থ কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি এবং ভাতার হার পুনর্নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ৯ম পে স্কেল ২০২৬ সাল থেকে কার্যকর করার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পূর্ববর্তী পে কমিশনের তুলনায় এবার মুদ্রাস্ফীতি, বাজারমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় আরও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব আনা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন পে কমিশন বাস্তবায়িত হলে সরকারি খাতে কর্মদক্ষতা ও মনোবল উভয়ই বৃদ্ধি পাবে। তবে, আর্থিক ভারসাম্য রক্ষায় সরকারকে অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা, এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি সেবার মানও উন্নত হবে। নতুন পে কমিশন ২০২৫ বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, এবং সবাই আগ্রহভরে অপেক্ষা করছে এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য।

সম্পাদকঃ

মোঃ নাইয়ার আযম,সহকারী অধ্যাপক(পদার্থবিজ্ঞান),মজিদা খাতুন মহিলা কলেজ, রংপুর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *