সাতের নামতা ও জীবনের সাত অধ্যায়: অদ্ভুত এক মিল

StudentBarta.com/Life Stories ডেক্স

আমাদের ছোটবেলায় স্কুলের প্রথম দিকেই যেসব জিনিস শেখানো হতো, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল নামতা। “এক একে এক, এক দুইয়ে দুই”-এইভাবে আমরা নামতা মুখস্থ করতাম। নামতা যত ভালো শেখা যেত, অঙ্ক সমাধান তত সহজ হয়ে উঠত। তবে কি নামতা শুধু অঙ্কের জন্যই দরকার? নাকি এর ভেতরে লুকিয়ে আছে জীবনের গভীর কোনো শিক্ষা?

আজ আমরা কথা বলব এক অদ্ভুত ব্যাপার নিয়ে-সাতের নামতা আর মানুষের জীবনের সাতটি অধ্যায়। অনেকে বিশ্বাস করেন, সাতের নামতার প্রতিটি ধাপ জীবনের একেকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়কে ইঙ্গিত করে। যদিও এটি কোনো বৈজ্ঞানিক সূত্র নয়, তবে ভেবে দেখলে দেখা যায় এর ভেতর এক ধরনের জীবনদর্শন লুকিয়ে আছে। চলুন এবার একে একে দেখি-

সাত বছর বয়স মানেই শৈশবের মিষ্টি স্মৃতি। এই বয়সে শিশুরা স্কুলে ভর্তি হয়, খেলাধুলায় মেতে থাকে আর চারপাশের পৃথিবীকে আবিষ্কার করে। জীবনের সবচেয়ে নির্ভেজাল সময় বলা হয় শৈশবকে। এই বয়সে যে ভিত্তি গড়ে ওঠে, তা ভবিষ্যৎ জীবনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।

× ২ = ১৪ যৌবনের শুরু

চৌদ্দ বছর বয়স থেকে শুরু হয় কৈশোর ও যৌবনের দোরগোড়ায় পা রাখা। শরীর ও মনের পরিবর্তন, নতুন নতুন স্বপ্ন দেখা আর নিজের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া শুরু হয় এই সময়। এটাই হলো জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়, যেখানে কল্পনা শক্তি সবচেয়ে বেশি জাগ্রত হয়।

× ৩ = ২১ বিয়ের বয়স

একুশ মানেই প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠা। এই সময়েই অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে বা কর্মজীবনে প্রবেশের প্রস্তুতি নেয়। সমাজে অনেক দেশে একুশকে বিয়ের উপযুক্ত বয়স ধরা হয়। এখানেই জীবনের নতুন দায়িত্ব এসে হাজির হয়-নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা, ক্যারিয়ার গড়া, পরিবার গঠন করা।

× ৪ = ২৮ সন্তান আগমনের সময়

আটাশ বছর বয়স সাধারণত দায়িত্বপূর্ণ জীবনের শুরুর সময়। এ বয়সে অনেকের সন্তান আসে, পরিবার বড় হতে শুরু করে। জীবনের আনন্দ ও ব্যস্ততা বাড়ে। তখন মানুষ শিখে যায় কীভাবে ব্যক্তিগত জীবন, কর্মজীবন আর সামাজিক দায়িত্বকে একসাথে সামলাতে হয়।

× ৫ = ৩৫ মামা-কাকা হওয়া

পঁইত্রিশ বছর বয়সে অনেকেই আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে ‘মামা’ বা ‘কাকা’ হয়ে যায়। পরিবারে নতুন প্রজন্ম যোগ হয়, আর মানুষও ধীরে ধীরে মধ্য বয়সে প্রবেশ করে। এটি জীবনের সেই অধ্যায় যেখানে দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি, আবার জীবনের আনন্দও অনেক।

× ৬ = ৪২ সংগ্রামের দায়ভার

বিয়াল্লিশ মানেই জীবনের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। সংসার, সন্তান, কাজ-সব কিছুর চাপ এসে একসাথে পড়ে। অনেকেই এই বয়সে জীবনের সংগ্রামকে সবচেয়ে বেশি অনুভব করে। কিন্তু এই চাপই মানুষকে আরও শক্ত করে তোলে, জীবনের প্রতি আরও পরিণত দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে।

× ৭ = ৪৯ বৃদ্ধ হওয়ার শুরু

ঊনপঞ্চাশ বছর বয়স মানেই বার্ধক্যের ছোঁয়া পাওয়া শুরু। চোখে চশমা লাগে, শরীর একটু ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তবে অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার তখন পূর্ণ হয়ে ওঠে। মানুষ বুঝতে শেখে জীবনের প্রকৃত মানে কী।

× ৮ = ৫৬ অবসরের মানসিকতা

ছাপ্পান্ন মানেই অবসর নেওয়ার প্রস্তুতি। যদিও বাস্তবে সবাই তখন অবসর নেয় না, তবে মনে মনে অবসরের চিন্তা শুরু হয়। শরীর-মন বিশ্রাম চায়, জীবনের গতি ধীরে হয়। এসময় মানুষ অনেক সময়েই অতীতের স্মৃতিতে ফিরে যায়।

× ৯ = ৬৩ দাদু/নানু ডাক শোনা

তেষট্টি বছর বয়সে মানুষ দাদা-নানু হয়ে ওঠে। নাতি-নাতনির হাসি-আনন্দে জীবন ভরে ওঠে। এটি জীবনের এক নতুন অধ্যায়, যেখানে দায়িত্ব কিছুটা কমে যায়, তবে আনন্দ অনেক বাড়ে।

× ১০ = ৭০ বিদায়ের প্রহর

সত্তর বছর মানেই জীবনের শেষ প্রান্তের দিকে এগিয়ে যাওয়া। এই বয়সে মানুষ নিজের জীবনের হিসাব-নিকাশ করতে থাকে। কে কী অর্জন করল, কতটা সুখী হলো, সেই ভাবনাই ভর করে থাকে মনে। তবে এটিই হলো জীবনের সোনালী সময়, যেখানে অভিজ্ঞতা আর শান্তিই হলো মূল সম্পদ।

দেখা যাচ্ছে, সাতের নামতা শুধু অঙ্ক শেখায় না, জীবনের সাতটি অধ্যায়ের সাথেও অদ্ভুতভাবে মিলে যায়। শৈশব থেকে শুরু করে বার্ধক্য পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সাতের গুণফল যেন জীবনের একেকটি ছবি এঁকে দেয়।

  • শেষ কথা

এটি কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা নয়, বরং জীবনের অভিজ্ঞতাকে এক রকম প্রতীকীভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা। তবে মজার ব্যাপার হলো, আমরা যখন ছোটবেলায় সাতের নামতা মুখস্থ করতাম, তখন হয়তো বুঝতেই পারিনি যে এর ভেতরে জীবনের এত সুন্দর শিক্ষা লুকিয়ে থাকতে পারে।

সাত নাম্বার সংখ্যা সবসময়ই রহস্যময়। সাত দিনে এক সপ্তাহ, সাত রঙে রামধনু, সাত সমুদ্র আর সাত আশ্চর্য-সবকিছুতেই যেন সাতের এক অদ্ভুত যাদু কাজ করে।

তাই বলা যায়, সাতের নামতা শুধু অঙ্ক নয়, জীবন দর্শনেরও এক চমৎকার রূপক।

  • – লেখা পড়তে মজা লাগলো তো? এখন ভেবে দেখুন, আপনার বয়স কোন গুণফলের সাথে মিলে যায়।
  • লেখাটি ভালো লাগলে ওয়েব সাইডটি নিয়মিত ভিজিট করুন।

লেখকঃ মোঃ নাইয়ার আযম

সম্পাদকঃ

মোঃ নাইয়ার আযম, সহকারী অধ্যাপক(পদার্থবিজ্ঞান), মজিদা খাতুন মহিলা কলেজ,রংপুর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *