ছেলে-মেয়েদের স্বপ্নদোষ কেন হয় এবং করণীয় কী?

লিখছেনঃ Studentbarta.com /Lifestyle Desk

স্বপ্নদোষ (Nightfall) বা নকটার্নাল এমিশন একটি প্রাকৃতিক শারীরিক প্রক্রিয়া, যা কিশোর ও যুবকদের মাঝে সাধারণত বেশি দেখা যায়। এটি ছেলে এবং মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রেই হতে পারে, যদিও ছেলেদের মাঝে বিষয়টি বেশি লক্ষ্য করা যায়। তবে এটি নিয়ে অযথা ভয় বা লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই, বরং সঠিক তথ্য জানা এবং করণীয়গুলো অনুসরণ করলেই এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

ছেলে-মেয়েদের স্বপ্নদোষ কেন হয় ও করণীয়

স্বপ্ন দোষ হলো ঘুমের মধ্যে হঠাৎ করে বীর্যপাত বা যৌন উত্তেজনায় শারীরিক নিঃসরণ হওয়া। সাধারণত এটি তখন হয় যখন শরীরে অতিরিক্ত হরমোন তৈরি হয় এবং তা প্রাকৃতিকভাবে শরীর বাইরে নিঃসৃত হয়। এটি ছেলে ও মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রেই হতে পারে – মেয়েদের ক্ষেত্রে স্বপ্নদোষ বলতে সাধারণত যোনিপথে তরল নিঃসরণকে বোঝানো হয়।

ছেলে-মেয়েদের স্বপ্নদোষ হওয়ার কারণ

১।  হরমোনের পরিবর্তন:

    বয়ঃসন্ধিকালে হরমোনের তারতম্যের কারণে এই ঘটনা ঘটে।

২। অতিরিক্ত যৌন চিন্তা:

   পর্নোগ্রাফি দেখা, যৌন কল্পনা করা ইত্যাদি স্বপ্নদোষকে বাড়িয়ে তোলে।

৩। শরীরে বীর্যের চাপ:

     দীর্ঘদিন বীর্যপাত না হলে স্বপ্নে তা নিঃসৃত হয়।

৪। ঘুমের পজিশন:

    কখনও কখনও পেটের উপর ঘুমানোও যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

৫। অতিরিক্ত মশলাদার খাবার:

    এই ধরনের খাবার হজমে সমস্যা তৈরি করে এবং মস্তিষ্কে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।

না, স্বপ্নদোষ ক্ষতিকর নয় যদি এটি স্বাভাবিক মাত্রায় হয় (মাসে ২-৩ বার)। তবে যদি সপ্তাহে ৩-৪ বারের বেশি হয় এবং শরীর দুর্বল লাগে বা মানসিক অস্থিরতা দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

১।  পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত জীবনযাপন করুন।

২।  রাতে হালকা খাবার খান এবং দেরিতে খাবেন না।

৩।  পর্নো ও অশ্লীল কন্টেন্ট দেখা বন্ধ করুন।

৪।  রাতের ঘুমে যাওয়ার আগে ওজু করে ঘুমান।

৫।  ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে দোয়া-দরূদ পড়া অভ্যাস করুন।

৬।  মনোযোগ পড়াশোনায় দিন এবং শরীরচর্চা করুন।

৭।  প্রয়োজনে চিকিৎসকের সহায়তা নিন।

ইসলামের দৃষ্টিতে স্বপ্নদোষ

ইসলামে স্বপ্নদোষকে পাপ নয় বলে গণ্য করা হয়েছে, বরং এটি স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। তবে স্বপ্নদোষ হওয়ার পর গোসল ফরজ হয়ে যায়। তাই ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী পবিত্রতা বজায় রাখা জরুরি।

উপসংহার

স্বপ্নদোষ একটি স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া। একে ভয় পাওয়ার কিছু নেই বরং সঠিক জ্ঞান ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই পারে এটিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে। যদি এটি অতিরিক্ত হয় বা শরীর-মন দুর্বল লাগে, তাহলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

 লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না। আরও এমন শিক্ষামূলক লেখা পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন: studentbarta.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *